বুধবার , ০৭ অক্টোবর ২০২৬
বুধবার , ০৭ অক্টোবর ২০২৬
হোম › জাতীয় › দেশের ব্যাংক খাতে কোটিপতি অ্যাকাউন্ট বাড়লেও আমানত কমছে: রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় বড় গ্রাহকদের অর্থ উত্তোলন বৃদ্ধি

দেশের ব্যাংক খাতে কোটিপতি অ্যাকাউন্ট বাড়লেও আমানত কমছে: রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় বড় গ্রাহকদের অর্থ উত্তোলন বৃদ্ধি

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
দেশের ব্যাংক খাতে কোটিপতি অ্যাকাউন্ট বাড়লেও আমানত কমছে: রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় বড় গ্রাহকদের অর্থ উত্তোলন বৃদ্ধি

দেশের ব্যাংকিং খাতে কোটিপতি গ্রাহকের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়লেও তাদের আমানতের পরিমাণ দ্রুত কমছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বড় অঙ্কের আমানতকারীরা ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিচ্ছেন, ফলে মাত্র তিন মাসে এসব অ্যাকাউন্টে জমা অর্থ কমেছে প্রায় ৫৯ হাজার ২০৯ কোটি টাকা—বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।


বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের মার্চ থেকে জুন প্রান্তিকে কোটিপতি অ্যাকাউন্টধারীর সংখ্যা বেড়েছিল ৫,৯৭৪টি। আবার জুন থেকে সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে এ সংখ্যা আরও ৭৩৪টি বৃদ্ধি পায়। তবে অ্যাকাউন্ট বাড়লেও আমানতের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে সেপ্টেম্বরে।


খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ব্যাংক খাতে আর্থিক অনিয়মের খবর প্রকাশ, দুর্বল ব্যাংকগুলোর একীভূতকরণের প্রস্তাব এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ধনী আমানতকারীদের আচরণে বড় পরিবর্তন এনেছে। ফলে বড় অঙ্কের আমানতকারীরা বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছেন।


বিশেষজ্ঞদের মতে, ধনী গ্রাহকদের ব্যাংক থেকে সরে যাওয়া ব্যাংকগুলোর তারল্য অবস্থার জন্য উদ্বেগজনক। বড় অঙ্কের আমানতই ব্যাংকের সবচেয়ে শক্তিশালী তারল্য ভিত্তি তৈরি করে।


বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুন প্রান্তিকে ব্যাংক খাতে কোটি টাকার অ্যাকাউন্ট ছিল ১ লাখ ২৭ হাজার ৩৩৬টি, যা সেপ্টেম্বর শেষে দাঁড়ায় ১ লাখ ২৮ হাজার ৭০টি—অর্থাৎ বেড়েছে ৭৩৪টি।

কিন্তু আমানত কমেছে বড় পরিসরে। জুন শেষে এসব অ্যাকাউন্টে জমা ছিল ৮ লাখ ৮০ হাজার ৭৭২ কোটি টাকা, যা সেপ্টেম্বর শেষে নেমে আসে ৮ লাখ ২১ হাজার ৫৬২ কোটি টাকায়।


বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, কোটি টাকার হিসাব মানেই ব্যক্তি কোটিপতি নয়—কারণ অনেক প্রতিষ্ঠান, সরকারি সংস্থা ও একই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের একাধিক অ্যাকাউন্টও এই তালিকায় যুক্ত থাকে।


বিআইবিএমের সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বড় আমানতকারীরা সাধারণত সতর্ক হয়ে ওঠেন। দুর্বল ব্যাংকে রাখা আমানত বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করায় অনেকে টাকা ছোট ছোট হিসাব বা অন্যান্য খাতে স্থানান্তর করছেন। বিষয়টি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা উচিত বলেও তিনি মত দেন।


বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা, যিনি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, বলেন—ধনী গ্রাহকরা রাজনৈতিক ও নীতিগত পরিবর্তনের বিষয়ে সবসময় সংবেদনশীল। তাই পরিবেশ বদলালে নিরাপদ গন্তব্যে অর্থ স্থানান্তরের প্রবণতা বেড়ে যায়, এবং সাম্প্রতিক আমানত হ্রাসের পেছনেও এই কারণ থাকতে পারে।