মঙ্গলবার , ০৬ অক্টোবর ২০২৬
মঙ্গলবার , ০৬ অক্টোবর ২০২৬
হোম › জাতীয় › ১ জানুয়ারি শুরু হচ্ছে ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা, উদ্বোধন করবেন প্রধান উপদেষ্টা

১ জানুয়ারি শুরু হচ্ছে ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা, উদ্বোধন করবেন প্রধান উপদেষ্টা

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
১ জানুয়ারি শুরু হচ্ছে ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা, উদ্বোধন করবেন প্রধান উপদেষ্টা

দেশীয় পণ্যের প্রচার, রপ্তানি সক্ষমতা তুলে ধরা এবং উদ্যোক্তাদের নতুন বাজারের সঙ্গে সংযুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে আগামী ১ জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা (ডিআইটিএফ-২০২৬)। পূর্বাচলের বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে মাসব্যাপী এ মেলার উদ্বোধন করবেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।


সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান জানান, এবারের মেলায় আধুনিক ডিজিটাল সুবিধা ও দর্শনার্থীবান্ধব নানা উদ্যোগ যুক্ত করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ, অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) আব্দুর রহিম খান এবং ইপিবির মহাপরিচালক বেবি রাণী কর্মকার উপস্থিত ছিলেন।


তিনি জানান, মেলায় অনলাইনে স্টল ও প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ এবং ই-টিকিটিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। দর্শনার্থীরা কিউআর কোড স্ক্যান করে প্রবেশ করতে পারবেন। যাতায়াত সহজ করতে বিআরটিসির ডেডিকেটেড শাটল বাসের পাশাপাশি স্বল্পমূল্যে পাঠাও সেবা যুক্ত করা হয়েছে।


রপ্তানি খাতের সম্ভাবনা তুলে ধরতে থাকছে বিশেষ ‘এক্সপোর্ট এনক্লেভ’। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে আহত ও শহীদদের স্মরণে নির্মাণ করা হয়েছে ‘বাংলাদেশ স্কয়ার’। সম্ভাবনাময় খাতভিত্তিক সেমিনার ও আলোচনাসভাও অনুষ্ঠিত হবে।


পরিবারবান্ধব এই মেলায় ইলেকট্রনিক্স ও ফার্নিচার জোন, সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য বসার ব্যবস্থা, শিশুদের জন্য দুটি পার্ক এবং উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক মঞ্চ থাকছে। নারী উদ্যোক্তা, প্রতিবন্ধী ও কুটির, তাঁত ও হস্তশিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য সংরক্ষিত স্টলের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।


পরিবেশ সুরক্ষায় মেলায় পলিথিন ও সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিকল্প হিসেবে স্বল্পমূল্যে পরিবেশবান্ধব শপিং ব্যাগ সরবরাহ করা হবে।


এবার মেলায় মোট ৩২৪টি প্যাভিলিয়ন, স্টল ও রেস্টুরেন্ট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণে বস্ত্র, ইলেকট্রনিক্স, ফার্নিচার, পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়া, জুতা, কসমেটিক্স, হোম ডেকর, খেলনা, স্টেশনারি, প্রক্রিয়াজাত খাদ্যসহ নানা পণ্য প্রদর্শিত হবে।


দর্শনার্থীদের যাতায়াতে কুড়িল বিশ্বরোড, ফার্মগেট, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদী থেকে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে ২০০টির বেশি বিআরটিসি শাটল বাস চলবে। ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ থেকে ১৩০ টাকা। মেলা প্রতিদিন সকাল ৯টা ৫৫ মিনিট থেকে রাত ৯টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত এবং সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।


প্রবেশ টিকিটের মূল্য প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৫০ টাকা এবং শিশুদের (১২ বছরের নিচে) জন্য ২৫ টাকা। মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী ও জুলাই আন্দোলনে আহতরা কার্ড প্রদর্শন করে বিনা মূল্যে প্রবেশ করতে পারবেন।


নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, র‍্যাব, সেনাবাহিনী, এপিবিএন ও গোয়েন্দা সংস্থা মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি থাকবে সিসিটিভি নজরদারি, ফায়ার সার্ভিস, ফ্রি প্রাথমিক চিকিৎসা ও মানসম্মত খাবারের ব্যবস্থা।


১৯৯৫ সাল থেকে নিয়মিত আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা দেশীয় পণ্যের প্রসার, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।