অপরাজেয় নেত্রীর বিদায়: খালেদা জিয়া—গণতন্ত্রের আন্দোলন থেকে রাষ্ট্রক্ষমতার শীর্ষে
বাংলাদেশের রাজনীতির এক অনন্য ও প্রভাবশালী অধ্যায়ের সমাপ্তি হলো। বিএনপি চেয়ারপারসন ও দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া আর নেই। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোরে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
একাধিক আসনে নির্বাচন করে কখনো পরাজয়ের মুখ না দেখা খালেদা জিয়া ছিলেন দেশের রাজনীতিতে এক ব্যতিক্রমী ব্যক্তিত্ব। জনপ্রিয়তার জোয়ারে যেখানে দাঁড়িয়েছেন, সেখান থেকেই জয় নিয়ে ফিরেছেন। ৮০ বছর বয়সে তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে অবসান হলো একটি দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়ের, তবে রাজনীতির মাঠে তিনি রয়ে গেলেন অপরাজেয়।
১৯৪৫ সালে জন্ম নেওয়া খালেদা জিয়া গৃহবধু থেকে রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর। ১৯৮২ সালে বিএনপিতে যোগ দিয়ে তিনি দ্রুত নেতৃত্বে উঠে আসেন এবং ১৯৮৪ সালে দলের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন—যে পদে তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অধিষ্ঠিত ছিলেন।
এরশাদবিরোধী আন্দোলনে আপোষহীন ভূমিকা রেখে তিনি হয়ে ওঠেন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের অন্যতম প্রধান মুখ। তিনবার গ্রেফতার, আন্দোলন-সংগ্রাম আর রাজনৈতিক চাপে নতি স্বীকার না করার মধ্য দিয়েই তৈরি হয় তার ‘আপোষহীন নেত্রী’ পরিচয়।
১৯৯১ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন। পরে ২০০১ সালে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফিরে নেতৃত্ব দেন চারদলীয় জোট সরকারকে। তার শাসনামল নিয়ে বিতর্ক যেমন ছিল, তেমনি গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে তার প্রভাবও ছিল সুদূরপ্রসারী।
এক-এগারোর রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, কারাবরণ, দুর্নীতি মামলায় দণ্ড, গৃহবন্দি জীবন—সব প্রতিকূলতার মধ্যেও রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াননি খালেদা জিয়া। দীর্ঘ অসুস্থতা ও চিকিৎসার পর অবশেষে ৩০ ডিসেম্বর ভোরে তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান।
তার মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোক। সমর্থক ও রাজনৈতিক সহকর্মীদের কাছে তিনি চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবেন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এক অবিচল প্রতীক হিসেবে।