সোমবার , ০৫ অক্টোবর ২০২৬
সোমবার , ০৫ অক্টোবর ২০২৬
হোম › জাতীয় › খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জাতি এক মহান অভিভাবককে হারাল: প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জাতি এক মহান অভিভাবককে হারাল: প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জাতি এক মহান অভিভাবককে হারাল: প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস

তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপারসন ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতীক বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।


এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে জাতি এক মহান অভিভাবককে হারাল। তার মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত।


প্রধান উপদেষ্টা বলেন, খালেদা জিয়া কেবল একটি রাজনৈতিক দলের নেত্রী ছিলেন না; তিনি ছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তার দীর্ঘ সংগ্রাম, অবদান এবং জনগণের আবেগের প্রতি সম্মান জানিয়ে সরকার চলতি মাসেই তাকে রাষ্ট্রের অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করে।


তিনি বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র, বহুদলীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তার ভূমিকা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার আপসহীন নেতৃত্ব বারবার জাতিকে গণতন্ত্রহীন অবস্থা থেকে মুক্ত হওয়ার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।


রাজনৈতিক মতপার্থক্য সত্ত্বেও দেশ ও জাতির কল্যাণে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রা, গণমুখী নেতৃত্ব ও দৃঢ় মনোবল সবাইকে পথ দেখিয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধান উপদেষ্টা। তার মৃত্যুতে দেশ একজন অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত রাজনীতিককে হারাল বলেও তিনি মন্তব্য করেন।


শোকবার্তায় বলা হয়, বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়া স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। ১৯৮২ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর গৃহবধূ থেকে রাজনীতির মাঠে এসে তিনি স্বৈরশাসক এরশাদের দীর্ঘ ৯ বছরের শাসনের পতনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।


প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, খালেদা জিয়ার বহু সিদ্ধান্ত দেশকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করেছে। মেয়েদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষা ও উপবৃত্তি চালু করা নারী শিক্ষার অগ্রগতিতে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক।


তিনি উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক জীবনে খালেদা জিয়া ছিলেন ব্যতিক্রমীভাবে সফল। তিনি কখনো নির্বাচনে পরাজিত হননি এবং একাধিক সংসদীয় আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। ১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর অর্থনৈতিক উদারীকরণের মাধ্যমে তিনি দেশের অর্থনীতির একটি দৃঢ় ভিত্তি গড়ে তোলেন।


শেখ হাসিনার শাসনামলে খালেদা জিয়া সংগ্রাম ও প্রতিরোধের এক অনন্য প্রতীক হয়ে ওঠেন বলেও শোকবার্তায় উল্লেখ করা হয়। রাজনৈতিক সাফল্যের কারণেই তাকে চরম রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হতে হয়েছে এবং মিথ্যা মামলায় দীর্ঘদিন কারাবাস করতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেন প্রধান উপদেষ্টা।


শোকবার্তার শেষে প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বেগম খালেদা জিয়ার শোকসন্তপ্ত পরিবার ও বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে জাতির এই অপূরণীয় ক্ষতির দিনে দেশবাসীকে শান্ত ও ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়ে সবার কাছে তার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও প্রার্থনার অনুরোধ করেন।