মঙ্গলবার , ০৬ অক্টোবর ২০২৬
মঙ্গলবার , ০৬ অক্টোবর ২০২৬
হোম › জাতীয় › মার্চে ভয়াবহ আকার নিতে পারে কিউলেক্স মশার উপদ্রব, সতর্ক করলেন বিশেষজ্ঞরা

মার্চে ভয়াবহ আকার নিতে পারে কিউলেক্স মশার উপদ্রব, সতর্ক করলেন বিশেষজ্ঞরা

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
মার্চে ভয়াবহ আকার নিতে পারে কিউলেক্স মশার উপদ্রব, সতর্ক করলেন বিশেষজ্ঞরা

ঢাকায় মশার উপদ্রব এখন আর শুধু বিরক্তির বিষয় নয়; এটি জনস্বাস্থ্য, নগর ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক সক্ষমতার একটি বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। রাজধানীতে ডেঙ্গুবাহী এডিস মশার সংখ্যা আপাতত কমলেও দ্রুত বাড়ছে কিউলেক্স মশার বিস্তার, যা আগামী মার্চ মাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।


এই উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে ঢাকা ইউটিলিটি রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডুরা) আয়োজিত ‘মশার উপদ্রব ও নাগরিক ভোগান্তি’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায়। শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ সভায় রাজধানীতে মশা নিয়ন্ত্রণের বর্তমান বাস্তবতা, দায়বদ্ধতা ও করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।


আলোচনায় প্রধান অতিথি ও বিশেষজ্ঞ হিসেবে বক্তব্য দেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার। তিনি বলেন, ঢাকায় মশা সমস্যা আর মৌসুমি নয়; এটি একটি কাঠামোগত ও বৈজ্ঞানিক সংকট। বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্য উপেক্ষা করলে এর মূল্য দিতে হবে মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যের মাধ্যমে। নাগরিক অংশগ্রহণ ছাড়া ঢাকাকে মশামুক্ত করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


ড. বাশার জানান, সাম্প্রতিক সার্ভিল্যান্স তথ্য অনুযায়ী ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে সংগৃহীত প্রাপ্তবয়স্ক মশার প্রায় ৮৫ শতাংশই ছিল কিউলেক্স প্রজাতির। অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পরিষ্কার না হওয়া নালা, জলাবদ্ধ বেসমেন্ট ও পার্কিং এলাকা রাজধানীকে কিউলেক্স মশার আদর্শ প্রজননস্থলে পরিণত করেছে।


তিনি বলেন, কিউলেক্স মশা দীর্ঘদিন অবহেলিত থাকলেও এটি ফাইলেরিয়া রোগের বাহক এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তোলে। কেবল ডেঙ্গু মৌসুম এলেই মশা নিয়ে ভাবলে চলবে না; সারা বছরই কিউলেক্স নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।


কিউলেক্স মশা নিয়ন্ত্রণে ড্রেনেজ ব্যবস্থার কাঠামোগত সংস্কার, জলাবদ্ধতা রোধ, লেক ও খাল পরিষ্কার এবং স্থায়ী প্রজননস্থলে আধুনিক লার্ভা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালুর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।


ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নিশাত পারভীন বলেন, মশা নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশনের একক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। নাগরিকদের নিজ নিজ বাসা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং সচেতন হওয়া জরুরি।


বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সভাপতি ড. মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ন ও দুর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাপনাই মশা সমস্যার মূল কারণ। স্থায়ী সমাধানের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও পরিকল্পিত উদ্যোগ প্রয়োজন।


ডিএনসিসির সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. সাদমান সাকিব জানান, কিউলেক্স মশার সম্ভাব্য বিস্তার বিবেচনায় এক মাসব্যাপী বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।


আলোচনা সভা শেষে ডুরার কার্যনির্বাহী কমিটি নতুন সদস্যদের বরণ করে নেয় এবং কয়েকজন সাংবাদিককে সংগঠনের সদস্যপদ প্রদান করা হয়।