বৃহস্পতিবার , ২০ আগস্ট ২০২৬
বৃহস্পতিবার , ২০ আগস্ট ২০২৬
হোমজাতীয়অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসে সংস্কার: অর্থনীতি, আইন-শৃঙ্খলা ও কূটনীতি সবখাতে অগ্রগতি

অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসে সংস্কার: অর্থনীতি, আইন-শৃঙ্খলা ও কূটনীতি সবখাতে অগ্রগতি

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসে সংস্কার: অর্থনীতি, আইন-শৃঙ্খলা ও কূটনীতি সবখাতে অগ্রগতি

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কও ভারসাম্যপূর্ণ হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ১৬ বছরের ক্ষতি আঠারো মাসে পূরণ সম্ভব নয়, তবে দেশ স্বৈরাচারী প্রথা থেকে সরে এসে গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের পথে অগ্রসর হচ্ছে।


বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২৪ বছরের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে বাংলাদেশ একটি নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করে। ১৬ বছরের দমন-পীড়নের পর প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। তখন রাষ্ট্র অর্থনৈতিক বিপর্যয় ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতায় জর্জরিত ছিল। দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, লুটপাট এবং অর্থপাচারে ব্যাংকিং খাত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল।


অন্তর্বর্তী সরকার বিশেষজ্ঞদের নিয়ে সংস্কার কমিশন গঠন করে এবং আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। দায়িত্ব গ্রহণের ১৮ মাসে প্রায় ১৩০টি আইন (নতুন ও সংশোধনী) প্রণয়ন এবং ৬০০টিরও বেশি নির্বাহী আদেশ জারি করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮৪ শতাংশ ইতিমধ্যেই বাস্তবায়ন করা হয়েছে।


অর্থনীতি ও কূটনীতিতেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তির মাধ্যমে প্রায় ৭,৪০০টি বাংলাদেশি পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়েছে। চীনের সঙ্গে ঋণের মেয়াদ বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বন্যা পূর্বাভাস ব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় শুল্কহার ৩৭ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশে নামানো হয়েছে।


আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীেও সংস্কার আনা হয়েছে। ১,২০০-এর বেশি কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে, মানবাধিকারভিত্তিক প্রশিক্ষণ চালু হয়েছে। র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে পুনর্গঠন করে “স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স” নামকরণ করা হয়েছে। বিচার বিভাগে স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয়েছে এবং নির্বাহী হস্তক্ষেপ বন্ধ হয়েছে।


সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাও ফিরে এসেছে; সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার এবং বন্ধ হওয়া গণমাধ্যম পুনরায় চালু করা হয়েছে। ৪২টি মন্ত্রণালয়ে ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে তথ্য প্রকাশে স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে।


বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই সংস্কারগুলোর মাধ্যমে নাগরিকবান্ধব কাঠামোর সূচনা ঘটেছে। ১৬ বছরের ক্ষতি আঠারো মাসে পুরোপুরি পূরণ সম্ভব নয়, তবে দেশ দৃঢ়ভাবে স্বৈরাচারী ব্যবস্থার বাইরে এসে গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের পথে অগ্রসর হচ্ছে।