রবিবার , ১৬ আগস্ট ২০২৬
রবিবার , ১৬ আগস্ট ২০২৬
হোমসারা দেশকক্সবাজারে পাহাড়ধসে প্রাণহানি বেড়ে ১১, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সবচেয়ে বেশি নিহত

কক্সবাজারে পাহাড়ধসে প্রাণহানি বেড়ে ১১, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সবচেয়ে বেশি নিহত

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
কক্সবাজারে পাহাড়ধসে প্রাণহানি বেড়ে ১১, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সবচেয়ে বেশি নিহত

টানা ভারী বর্ষণে কক্সবাজারে পৃথক স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি। সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে উখিয়ার রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে।


মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে কক্সবাজার সদর উপজেলার দরিয়ানগর এলাকায় পাহাড়ধসে এক নারীর মৃত্যু হয়। একই ঘটনায় শিশুসহ চারজন আহত হয়েছেন। এর আগে উখিয়ার ৭, ১১ ও ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং কক্সবাজার শহরের ছাত্তারঘোনা এলাকায় পাহাড়ধসে আরও নয়জনের মৃত্যু হয়। এছাড়া সোমবার পেকুয়া উপজেলায় পৃথক এক ঘটনায় পাহাড়ধসে এক শিশুর মৃত্যু হয়।


উখিয়ার ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রাত দেড়টার দিকে পাহাড়ধসে একটি ঘর মাটিচাপা পড়ে। এতে মোহাম্মদ কামাল হোসাইন (৪৪), তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং তাদের চার বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ আনাস নিহত হন। পরিবারের আরও সাত সদস্য আহত অবস্থায় উদ্ধার হন।


এর কিছুক্ষণ পর কুতুপালং ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে একরাম (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। পরে বালুখালী ১১ নম্বর ক্যাম্পে আরেকটি ভূমিধসে একই পরিবারের চারজন নিহত হন। তারা হলেন উম্মে হাবিবা (২৭), তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রিহান (৫) এবং হারুনুর রশিদ (৩)।


এদিকে কক্সবাজার শহরের ছাত্তারঘোনা এলাকায় পাহাড়ধসে স্থানীয় বাসিন্দা আলী আকবর মারা যান। অন্যদিকে, পেকুয়া উপজেলার টৈটং ইউনিয়নের খলিফা মুরা এলাকায় সোমবার পাহাড়ধসে মিনহাজ উদ্দিন (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়।


কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. অহিদুর রহমান জানান, পাহাড়ধসের ঘটনায় নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে আবহাওয়ার উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না থাকার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানিয়েছে প্রশাসন।


শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে পাহাড় কাটার কারণে ভূমিধসের ঝুঁকি বেড়েছে। তিনি এ ঘটনাকে অত্যন্ত মর্মান্তিক উল্লেখ করে অবৈধ পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।


এদিকে টানা বৃষ্টির কারণে কক্সবাজার জেলা সদর, উখিয়া, রামুসহ পাহাড়ঘেরা বিভিন্ন এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা আরও বেড়েছে। প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে সতর্ক থাকার এবং প্রয়োজন হলে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।