সোমবার , ১৭ আগস্ট ২০২৬
সোমবার , ১৭ আগস্ট ২০২৬
হোমবিশ্ব‘ককরোচ’ আন্দোলনে চাপে বিজেপি, নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত

‘ককরোচ’ আন্দোলনে চাপে বিজেপি, নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
‘ককরোচ’ আন্দোলনে চাপে বিজেপি, নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত

প্রশ্নফাঁস ও বেকারত্বের প্রতিবাদে ভারতের শিক্ষার্থীদের ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাটফর্ম ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-কে ঘিরে গড়ে ওঠা আন্দোলন ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। তরুণদের এই আন্দোলন দেশটির রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের সম্ভাবনাও তৈরি করছে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।


আল জাজিরার এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, গত মে মাসে ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ইনস্টাগ্রামে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র যাত্রা শুরু হয়। পরে এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গণ্ডি পেরিয়ে রাজপথের আন্দোলনে রূপ নেয়।


টানা সাত সপ্তাহের ছাত্র বিক্ষোভের মুখে সম্প্রতি ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


আন্দোলনের প্রভাব শুধু মন্ত্রীর পদত্যাগেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। বিহারের বাঁকিপুর বিধানসভা কেন্দ্রের মতো বিজেপির দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটিতেও দলটির পরাজয় এবং সাম্প্রতিক কয়েকটি উপনির্বাচনের ফল তরুণদের মধ্যে ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে অসন্তোষের বিষয়টি সামনে এনেছে।


শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ প্রশমনের চেষ্টা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেলফি-ভিডিওসহ বিভিন্ন প্রচারণামূলক উদ্যোগ নিলেও তরুণদের প্রতিক্রিয়া ছিল মিশ্র ও সমালোচনামূলক।


বিশ্লেষকদের মতে, অতীতে সরকারবিরোধী আন্দোলনকে নির্দিষ্ট ধর্মীয় বা আদর্শিক পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে মোকাবিলা করা সম্ভব হলেও সর্বজনীন চরিত্রের এই জেন-জি আন্দোলনের ক্ষেত্রে বিজেপির প্রচলিত কৌশল তেমন কার্যকর হয়নি।


রাজনীতি বিশ্লেষকদের ধারণা, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ সরাসরি রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ না করলেও তরুণদের এই চাপ ভারতের বিরোধী দলগুলো এবং সামগ্রিক জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।


বিজেপি তাদের হিন্দুত্ববাদী আদর্শিক অবস্থান থেকে সরে না এলেও তরুণদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা ধরে রাখতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যোগাযোগ ও প্রচারণার ধরনে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছে বলে বিশ্লেষণে বলা হয়েছে।