শনিবার , ২২ আগস্ট ২০২৬
শনিবার , ২২ আগস্ট ২০২৬
হোমবিশ্বশক্তিশালী ইমেজ ছেড়ে ইনস্টাগ্রাম রিলে মোদি, জেন জি ভোটারদের টানার চেষ্টা

শক্তিশালী ইমেজ ছেড়ে ইনস্টাগ্রাম রিলে মোদি, জেন জি ভোটারদের টানার চেষ্টা

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
শক্তিশালী ইমেজ ছেড়ে ইনস্টাগ্রাম রিলে মোদি, জেন জি ভোটারদের টানার চেষ্টা

ভারতে সাম্প্রতিক তরুণদের আন্দোলনের পর রাজনৈতিক দলগুলোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কৌশলে পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে নতুন কৌশল নিয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। এখন মোদির প্রচারে গুরুত্ব পাচ্ছে ইনস্টাগ্রাম রিল ও স্বল্পদৈর্ঘ্যের ভিডিও।


দীর্ঘদিন ধরে পূর্বলিখিত বক্তৃতা, আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান ও সতর্কভাবে সাজানো উপস্থিতির মাধ্যমে শক্তিশালী নেতার ভাবমূর্তি ধরে রেখেছেন মোদি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইনস্টাগ্রামে তাকে তুলনামূলক বেশি অনানুষ্ঠানিক ভঙ্গিতে দেখা যাচ্ছে। কখনো বাইক জ্যাকেট ও সানগ্লাসে, কখনো জনপ্রিয় গানের সঙ্গে কিংবা সরাসরি ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে তরুণদের উদ্দেশে বন্ধুসুলভ বার্তা দিচ্ছেন তিনি।


বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের জেন জি প্রজন্মের অনেকেই নরেন্দ্র মোদিকে বন্ধু হিসেবে দেখেন না। তারপরও তরুণদের সঙ্গে বন্ধুর মতো করে যোগাযোগ তৈরির চেষ্টা করছেন ৭৫ বছর বয়সী এই নেতা।


মোদির ইনস্টাগ্রাম টাইমলাইনে একসময় যেখানে বাছাই করা ও আনুষ্ঠানিক পোস্টই বেশি দেখা যেত, সেখানে এখন ‘আমার সঙ্গে প্রস্তুত হোন’ ধরনের ভিডিও, সেলফি ধাঁচের বার্তা এবং তরুণদের ‘বন্ধু’ হিসেবে সম্বোধন করার মতো কনটেন্ট দেখা যাচ্ছে।


ইনস্টাগ্রামে মোদির অনুসারীর সংখ্যা ১০ কোটি ৬০ লাখের বেশি। ফলে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি অনুসরণ করা রাজনৈতিক নেতাদের একজন তিনি। তবে এত বিপুল অনুসারী থাকার পরও ইনস্টাগ্রামকে বিজেপির প্রচলিত রাজনৈতিক যোগাযোগ কৌশলের মূল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখা হয়নি।


২০১৪ সালের নির্বাচনে ডিজিটাল যোগাযোগে দক্ষতার কারণে বিজেপি ব্যাপক সাফল্য পেয়েছিল। এতদিন দলটি অনলাইনে প্রচারের ক্ষেত্রে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ, ফেসবুক পেজ ও এক্সের মতো প্ল্যাটফর্মের ওপর বেশি নির্ভর করেছে।


তবে চলতি বছর ভারতের তরুণদের আন্দোলনের পর সেই কৌশলে পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। ব্যঙ্গাত্মক ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে ওই আন্দোলন মিম, লাইভস্ট্রিম ও ইনস্টাগ্রাম রিলের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং পরে তা বড় ধরনের আন্দোলনে রূপ নেয়। একপর্যায়ে এর প্রভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের একজন মন্ত্রী পদত্যাগ করেন।


লেখক ও ভাষ্যকার অনুরাগ মাইনাস ভার্মার মতে, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিজেপি অনলাইনে নিজেদের বার্তা ছড়িয়ে ভারতের অন্যতম শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। তবে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছাতে তাদের এখন আরও ব্যক্তিকেন্দ্রিক ও স্বতঃস্ফূর্ত কনটেন্টের দিকে যেতে হচ্ছে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের ৬০ শতাংশের বেশি মানুষের বয়স ৩৫ বছরের নিচে। ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনের সময় জেন জি ভোটাররা দেশের অন্যতম বড় ভোটব্যাংক হয়ে উঠতে পারে। তাই এই প্রজন্মের কাছে পৌঁছাতে ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় হওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।


তবে মোদির নতুন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কৌশল নিয়ে তরুণদের প্রতিক্রিয়া মিশ্র। তার কিছু ভিডিও নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ঠাট্টা-বিদ্রূপ হলেও, অনেকে আবার এই প্রচেষ্টার প্রশংসাও করেছেন।


মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক মাধ্যমে রাজনৈতিক ব্যবহারবিষয়ক অধ্যাপক জয়োজিত পাল বলেন, বিজেপি দীর্ঘদিন ধরে এক্স ও হোয়াটসঅ্যাপের মতো প্ল্যাটফর্মে সমর্থকদের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে নিজেদের বার্তা প্রচার করেছে। কিন্তু ইনস্টাগ্রামে একই কৌশল সবসময় কার্যকর নয়। কারণ এই প্ল্যাটফর্মে বেশি সময় দেখা, রিপ্লে, শেয়ার ও কমেন্টের মতো এনগেজমেন্টের ওপর কনটেন্টের বিস্তার অনেকাংশে নির্ভর করে।


তবে বিশেষজ্ঞরা জেন জি ভোটারদের আকৃষ্ট করতে বিজেপির ইনস্টাগ্রামকেন্দ্রিক প্রচেষ্টাকে অতিরিক্ত গুরুত্ব না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের মতে, ভবিষ্যৎ নির্বাচনে বিজেপির সাফল্য শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিক্রিয়ার ওপর নয়, বরং দলটির সাংগঠনিক শক্তি ও দীর্ঘদিনের সমর্থকগোষ্ঠীর ওপরও বড়ভাবে নির্ভর করবে।