গৃহবধূ নিখোঁজের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, রহস্যের জট কাটেনি এখনও
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে তানিয়া (২১) নামে এক গৃহবধূ এক মাস ৯ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। এই ঘটনায় উদ্বেগে রয়েছে তার পরিবার।
নিখোঁজের ঘটনায় গৃহবধূর বড় বোন রিনা আক্তার বাদী হয়ে স্বামী, শ্বশুর, দেবরসহ শ্বশুরবাড়ির সাতজনের বিরুদ্ধে হত্যা ও লাশ গুমের অভিযোগে আদালতে একটি মামলা করেছেন।
ঘটনার পর এতদিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ তানিয়ার কোনো সন্ধান দিতে পারেনি। এতে হতাশ হয়ে পড়েছে গৃহবধূর পরিবার। একই সঙ্গে নানা প্রশ্নের মুখে পড়েছে শ্বশুরবাড়ির লোকজন।
মামলার এজাহার ও তানিয়ার পরিবারের সূত্রে জানা যায়, তিন বছর আগে উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নের চাঁদপুর (পূর্বপাড়া) গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে তানিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তুচ্ছ বিষয় ও যৌতুকের দাবিতে তার উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো।
গত ৯ জুন রাত আনুমানিক ১২টার দিকে তানিয়া নিখোঁজ হন। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় তাকে মারধর করা হয়েছিল বলে অভিযোগ তানিয়ার পরিবারের।
নিখোঁজের পর সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজ করেও কোনো তথ্য না পেয়ে গত ১৩ জুন তানিয়ার বড় বোন আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নম্বর সিআর ৪৩৬/২৫। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছেন কমলনগর থানার ওসি (তদন্ত) মো. কামরুল হাসান।
এদিকে, তানিয়ার শ্বশুর মোহাম্মদ উল্লাহ দাবি করেছেন, গৃহবধূর ভাই ও বোন মিলে রাতের আঁধারে তাকে ঘর থেকে বের করে কোথাও লুকিয়ে রেখেছেন। এরপর আমাদের বিরুদ্ধে সাজানো গুমের মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা নিজেরাই তানিয়ার খোঁজে আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করছি।”
শ্বশুরপক্ষের দাবি, এক প্রতিবেশী নারীর প্ররোচনায় তানিয়া ঘর ছেড়েছেন। এ অভিযোগে ওই নারীর বিরুদ্ধেও মামলা করেছেন তারা।
কমলনগর থানার ওসি (তদন্ত) কামরুল হাসান বলেন, “মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অল্প সময়ের মধ্যে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে বলে আশা করছি।”
থানার ওসি তহিদুল ইসলাম জানান, নিখোঁজের ঘটনায় তানিয়ার স্বামী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। পাশাপাশি আদালতের আদেশে দায়ের হওয়া হত্যা মামলারও তদন্ত চলছে। গৃহবধূকে উদ্ধারে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।