সীমান্ত বিরোধ মেটাতে দিল্লিতে চীন-ভারত বৈঠক, সেপ্টেম্বরে মোদির চীন সফর
দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ নিরসনে চীন ও ভারত বেশ কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দুই দেশের মধ্যে ‘বিশেষ প্রতিনিধি’ স্তরের ২৪তম বৈঠক মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে চীনের প্রতিনিধিত্ব করেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এবং ভারতের হয়ে অংশ নেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল।
বৈঠকে সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় নতুন করে একটি বিশেষজ্ঞ গোষ্ঠী ও একটি কার্যকরী গোষ্ঠী গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। একই সঙ্গে কূটনৈতিক ও সামরিক পর্যায়ে আলোচনা জোরদার করে উত্তেজনা প্রশমনের বিষয়ে একমত হন দুই পক্ষ।
অজিত ডোভাল বলেন, সীমান্ত অঞ্চলে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এবং শান্তি বজায় রয়েছে। ওয়াং ইও জানান, স্থিতিশীলতা ফিরে আসায় দুই দেশের স্বার্থই সুরক্ষিত হচ্ছে এবং দীর্ঘমেয়াদে সুসম্পর্ক দু’পক্ষের জন্যই লাভজনক।
এর আগে সোমবার (১৮ আগস্ট) ওয়াং ই ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন। জয়শঙ্কর বলেন, ভারত-চীন সম্পর্ককে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সংবেদনশীলতা ও স্বার্থের ভিত্তিতে এগিয়ে নিতে হবে। জবাবে ওয়াং ই জানান, সীমান্তে শান্তি বজায় থাকলেই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে অগ্রগতি সম্ভব।
মোদির চীন সফর
বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘোষণা দেন, চলতি মাসের শেষে তিনি চীন সফরে যাবেন এবং সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) সম্মেলনেও যোগ দেবেন। সাত বছর পর এটি হবে তার প্রথম চীন সফর। এ সফরে প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সঙ্গেও বৈঠক করবেন তিনি।
প্রেক্ষাপট
২০২০ সালে পূর্ব লাদাখের গালওয়ানে দুই সেনাবাহিনীর সংঘর্ষে প্রাণহানি ঘটে। এর পর থেকেই সীমান্তে উত্তেজনা প্রশমনে নিয়মিত আলোচনা চালিয়ে আসছে চীন ও ভারত। তবে পাকিস্তানকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ এবং সীমান্ত ইস্যু পুরোপুরি না মেটায় দুই দেশের সম্পর্ক এখনও জটিল অবস্থায় রয়েছে।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ভারত সফর শেষে পাকিস্তানেও যাবেন বলে জানা গেছে। তবে বেইজিং জানিয়েছে, ভারত ও পাকিস্তান উভয় দেশের সঙ্গেই তাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বাণিজ্য পুনরায় চালুর উদ্যোগ
সীমান্তে শান্তি ফেরার পর এবার বাণিজ্য পুনরায় চালুর বিষয়েও কাজ করছে দুই দেশ। উত্তরাখণ্ডের লিপুলেখ পাস, হিমাচল প্রদেশের শিপকি লা পাস এবং সিকিমের নাথু লা পাস দিয়ে আবারও সীমান্ত বাণিজ্য শুরু করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। গালওয়ান সংঘর্ষ ও করোনা মহামারির সময় এসব রুট বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।