বৃহস্পতিবার , ০৮ অক্টোবর ২০২৬
বৃহস্পতিবার , ০৮ অক্টোবর ২০২৬
হোম › জাতীয় › আওয়ামী আমলে ফোনে আড়িপাতার তদন্তে কমিটি গঠন

আওয়ামী আমলে ফোনে আড়িপাতার তদন্তে কমিটি গঠন

favicon
অনলাইন সংস্করণ
আওয়ামী আমলে ফোনে আড়িপাতার তদন্তে কমিটি গঠন

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ফোনে আড়িপাতার ঘটনাগুলো তদন্তে নেমেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কোথা থেকে, কত টাকায় এবং কীভাবে এসব নজরদারি সরঞ্জাম কেনা ও ব্যবহার করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখবে কমিটি। শিগগিরই এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।


প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। প্রয়োজনে বিদেশি বিশেষজ্ঞদের মতামতও নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নজরদারি কেবল কল রেকর্ডেই সীমাবদ্ধ ছিল না; যেকোনো ডিভাইসের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার প্রযুক্তিও গড়ে তোলা হয়েছিল।


তথ্যপ্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও বেসিসের সাবেক সভাপতি ফাহিম মাশরুর বলেন, “এখনই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কারণ রাজনৈতিক সরকারগুলো এমন ব্যবস্থা ধরে রাখতে চায়। মানবাধিকার ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন হয়েছে। তদন্ত করে শ্বেতপত্র প্রকাশ এবং ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) বিলুপ্ত করা জরুরি।”


প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি-বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে। তিনি বলেন, “তদন্তে বিগত আওয়ামী সরকারের ফ্যাসিস্ট আচরণের প্রমাণ পাওয়া যাবে।”


নজরদারির জন্য ব্যবহৃত হয় দুটি সংস্থা— এনটিএমসি (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে) ও ডিওটি (ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে)। সূত্র জানায়, আওয়ামী সরকারের সময় এক বছরে প্রায় দেড় লাখ ফোনকল রেকর্ড করা হয়েছিল। রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বী বা সরকারের জন্য হুমকি মনে করা ব্যক্তিদের ফোনকল রেকর্ড করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ফাঁস করা হয়। এ কাজের নেতৃত্ব দেন এনটিএমসির সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (বরখাস্ত) জিয়াউল আহসান, যার বিরুদ্ধে গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ রয়েছে।


২০০৮ সালে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় গঠিত ন্যাশনাল মনিটরিং সেন্টার (এনএমসি) ২০১৩ সালে নাম বদলে এনটিএমসি হয় এবং ২০১৪ সাল থেকে স্বতন্ত্র সংস্থা হিসেবে কার্যক্রম শুরু করে।


তথ্য অনুসারে, ২০১৬ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত নজরদারিতে ব্যয় হয়েছে ৫২ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৬৩১ কোটি টাকা। এর বড় অংশ খরচ করেছে এনটিএমসি। কোনো নিয়মনীতি না মেনেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের এ ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার ছিল।


উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের পর প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, নজরদারির সরঞ্জাম কিনতে কেউ বলছেন প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার, কেউ বলছেন ২০০ মিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। এর অনেক সরঞ্জাম ইসরায়েল থেকেও কেনা হয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ আছে। তিনি বলেন, “গত সরকার নাগরিক অধিকার ও বাকস্বাধীনতা হরণ করেছে। সংবিধানে দেওয়া গোপনীয়তার অধিকারও খর্ব করা হয়েছে।”