বৃহস্পতিবার , ০৮ অক্টোবর ২০২৬
বৃহস্পতিবার , ০৮ অক্টোবর ২০২৬
হোম › জাতীয় › ছয় বছরেও চূড়ান্ত হয়নি আবরার হত্যা মামলা, দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি বাবার

ছয় বছরেও চূড়ান্ত হয়নি আবরার হত্যা মামলা, দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি বাবার

favicon
অনলাইন সংস্করণ
ছয় বছরেও চূড়ান্ত হয়নি আবরার হত্যা মামলা, দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি বাবার

ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার। বিচারিক আদালত ও হাইকোর্টে রায় ঘোষণার পরও আপিল বিভাগে এখনো শুরু হয়নি শুনানি। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আপিল প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ায় মামলাটি ঝুলে আছে। অন্যদিকে, দ্রুত রায় কার্যকর করে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন নিহত আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ।


বুয়েটের শেরেবাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষে থাকতেন আবরার ফাহাদ। তার ঠিক ওপরে ২০১১ নম্বর কক্ষে ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর ঘটে ভয়াবহ সেই হত্যাকাণ্ড। তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করা হয় ওই কক্ষে। পরে সিঁড়িতে তার নিথর দেহ ফেলে পালিয়ে যায় হত্যাকারীরা।


সন্তান হত্যার পরদিনই আবরারের বাবা তৎকালীন বুয়েট ছাত্রলীগের ২৫ নেতাকর্মীর নামে হত্যা মামলা করেন। প্রায় দুই বছর পর, বিচারিক আদালত রায়ে ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে।

চলতি বছরের মার্চে হাইকোর্টও সেই রায় বহাল রাখে। তবে রায়ের পর বেশ কয়েকজন আসামি আপিল করেছেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলুর দাবি—রায়ে বেশ কিছু ত্রুটি রয়েছে, যা আপিল বিভাগে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।


রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, আসামিদের আপিল নিষ্পত্তির পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


নিহত আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বলেন, “আমরা এখনও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। ছেলের হত্যার এত বছর পরও ন্যায়বিচার পাইনি। সরকারের উচিত দ্রুত মামলাটি নিষ্পত্তি করা ও আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।”


সমাজ বিশ্লেষকরা মনে করেন, এমন আলোচিত হত্যাকাণ্ডের বিচার দীর্ঘদিন ঝুলে থাকলে তাতে অপরাধীরা উৎসাহিত হয় এবং বিচারব্যবস্থার ওপর আস্থা কমে যায়।


আবরার ফাহাদের স্মৃতি ধরে রাখতে বুয়েটের শেরেবাংলা হল প্রাঙ্গণে নির্মাণ করা হয়েছে একটি স্মৃতিফলক, যাতে লেখা আছে— “অন্যায়ের বিরুদ্ধে সত্যের পথে।