বৃহস্পতিবার , ০৮ অক্টোবর ২০২৬
বৃহস্পতিবার , ০৮ অক্টোবর ২০২৬
হোম › জাতীয় › অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ

favicon
অনলাইন সংস্করণ
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা অব্যাহত আছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশের মানবাধিকারকর্মীরা। তাদের দাবি, মবের ভয়ে এখন সবাই আতঙ্কিত— এমনকি আদালত ও মানবাধিকারকর্মীরাও নিরাপদ নন।

তারা বলেন, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় হলো দ্রুত সুষ্ঠু নির্বাচন ও জনগণের প্রতিনিধি সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর।


বুধবার রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘হিউম্যান রাইটস ইন ট্রানজিশন’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন মানবাধিকারকর্মীরা।

বৈঠকের আয়োজন করে মানবাধিকার সংস্থা সকল প্রাণের নিরাপত্তা (সপ্রান)।


পরিসংখ্যানভিত্তিক প্রতিবেদন


সপ্রানের গবেষক অপ্সরা ইসলাম তন্দ্রা উপস্থাপিত প্রবন্ধে জানান,

২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত সময়ে—


সাংবাদিকদের ওপর হামলা হয়েছে ৪৯৬টি,


খুনের ঘটনা ২,৮৭৮টি,


মব সহিংসতা ১৯৫টি,


ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ওপর হামলা ৩৫টি,


শিশু নির্যাতন ৬৪০টি এবং


বিচারবহির্ভূত হত্যা ৩৫টি।


এ ছাড়া শ্রমিক অধিকার লঙ্ঘনে ৪৫ জন নিহত ও ৩০০ জন আহত, সীমান্তে ৩৪টি হত্যাকাণ্ড এবং ভারত থেকে দুই হাজারের বেশি পুশ ইন ঘটেছে।


প্রতিবেদনটি মূলধারার গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি বলে জানানো হয়।


সরকারের পাল্টা মন্তব্য


প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম মানবাধিকার প্রতিবেদনের নির্ভুলতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

তিনি বলেন,


“এই প্রতিবেদনগুলো অনেক সময় অসম্পূর্ণ ও সংবাদপত্রনির্ভর। আমাদের মিডিয়াগুলোর সময়, সম্পদ ও নির্ভুলতার অভাব আছে। তাই অনেক রিপোর্টের সত্যতা নিয়েই সন্দেহ থাকে।”


তবে তিনি দাবি করেন,


“বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি স্থিতিশীল, সংবাদমাধ্যমে যেভাবে উপস্থাপিত হয় বাস্তবে অবস্থা তার চেয়ে অনেক ভালো। অন্তর্বর্তী সরকার অনেক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও ভালো কাজ করছে।”


সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতার কারণ হিসেবে ফেসবুককে দায়ী করে তিনি আরও বলেন,


“রামু, নাসিরনগর, ভোলা, সুনামগঞ্জ— এসব সহিংসতার মূল উৎস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। ফেসবুকের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কারণেই ঘৃণা ছড়াচ্ছে।”


মানবাধিকারকর্মীদের প্রতিক্রিয়া


অন্তর্বর্তী সরকারের গুম কমিশনের সদস্য নূর খান বলেন,


“প্রেস সচিব আমাদের রিপোর্টের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, কিন্তু সরকারি রিপোর্টের সত্যতা নিয়ে কথা বলেননি। এটা দুঃখজনক।”


তিনি আরও বলেন,


“এখন মবের কারণে সবাই ভীত— এমনকি আদালতও। আদালতে ডিম ছোড়া, লাথি মারা, বিচারকের কক্ষে প্রবেশ— এসব ঘটছে প্রকাশ্যে।”


তিনি দ্রুত সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের আহ্বান জানান।


অন্যদের বক্তব্য


মানবাধিকারকর্মী সারা হোসেন বলেন,


“মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা শুধু বিগত সরকারের সময় নয়, সব সরকারের সময়েই হয়েছে। এখন রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকার নিয়েই কথা বলা দরকার।”


মানবাধিকারকর্মী রেজাউর রহমান লেনিন বলেন,


“বিচারবহির্ভূত হত্যা বন্ধ হচ্ছে না, কমিশন গঠনে সমাধান আসছে না। এখন যা দরকার, তা হলো জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি।”


বৈঠকে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ এম শাহান, গবেষক সাইমুম পারভেজ এবং আইনজীবী মানজুর আল মতিন প্রমুখ।