জুলাই-আগস্টের ঘটনায় মিথ্যা মামলা ও হয়রানির অভিযোগে তদন্ত শুরু
জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানের পর ঢাকাসহ সারাদেশে দায়ের হওয়া ১,৭৬০টি মামলার মধ্যে অনেকগুলোতেই মিথ্যা অভিযোগ, চাঁদাবাজি ও ব্যক্তিগত আক্রোশের প্রমাণ মিলেছে। এসব মামলায় আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মী ও নিরীহ নাগরিকদের আসামি করা হয়েছে।
সরকার ও পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, মিথ্যা মামলা দায়েরকারীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে ৬৭ জন বাদীকে শনাক্ত করা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম জানান, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩ ধারা অনুযায়ী ১৩৬ জনকে মামলার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, আরও ২৩৬ জনের আবেদন বিবেচনায় রয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, “মামলাবাণিজ্যে কেউ জড়িত থাকলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
তদন্তে উঠে এসেছে, রাজনৈতিক প্রভাব ও টাকার বিনিময়ে অনেকেই মিথ্যা মামলা করেছেন, এমনকি জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখিয়ে হত্যা মামলাও করা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবির পর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে মামলায়।
পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, কিছু সদস্য মামলা থেকে নাম বাদ দেওয়ার আশ্বাসে টাকা নিচ্ছে—এমন অভিযোগও তদন্তাধীন।
বর্ধিত সমালোচনার মুখে সরকার ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধন করেছে, যাতে ম্যাজিস্ট্রেট তদন্ত পর্যায়েই নিরপরাধদের মামলা থেকে অব্যাহতি দিতে পারেন।
সূত্র: দেশ রূপান্তর