বৃহস্পতিবার , ০৮ অক্টোবর ২০২৬
বৃহস্পতিবার , ০৮ অক্টোবর ২০২৬
হোম › জাতীয় › রাজধানীতে গাড়ি ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদা দাবি ও হামলার হুমকি, আতঙ্কে রিকন্ডিশন্ড গাড়ি ব্যবসায়ীরা

রাজধানীতে গাড়ি ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদা দাবি ও হামলার হুমকি, আতঙ্কে রিকন্ডিশন্ড গাড়ি ব্যবসায়ীরা

favicon
অনলাইন সংস্করণ
রাজধানীতে গাড়ি ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদা দাবি ও হামলার হুমকি, আতঙ্কে রিকন্ডিশন্ড গাড়ি ব্যবসায়ীরা

রাজধানীতে গত ছয় মাসে অন্তত ৪০ জন রিকন্ডিশন্ড গাড়ি ব্যবসায়ী চাঁদাবাজির শিকার হয়েছেন। শুধু তাই নয়, চাঁদা না দিলে ব্যবসায়ীদের পরিবারের সদস্যদের অপহরণের হুমকিও দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ পরিস্থিতিতে গত রবিবার রাস্তায় নেমে মানববন্ধন করে এ ঘটনার প্রতিকার দাবি করেছেন গাড়ি ব্যবসায়ীরা।


ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রে জানা যায়, পুরনো চিহ্নিত অপরাধীদের পাশাপাশি নতুন মুখও চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ে জড়িয়েছে। এসব অপরাধীদের অনেকে দেশের বাইরে—বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে বসে ফোনে চাঁদা দাবি করছে।


এ পর্যন্ত ছয়জন ব্যবসায়ী ভাটারা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। টার্গেট হওয়া শোরুমগুলোর বেশিরভাগ প্রগতি সরণি, বারিধারা ও আশপাশ এলাকায় অবস্থিত।


গত ১৩ অক্টোবর ভাটারায় এক ব্যবসায়ীকে জিম্মি করে ২০ লাখ টাকা দাবি করে একটি চক্র। পরবর্তীতে ৭৫ হাজার টাকা, এক লাখ টাকা নগদ, তিনটি মোবাইল, একটি ল্যাপটপ এবং একটি গাড়ি ছিনিয়ে নেয় তারা। এই ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় পুলিশ গতকাল যশোর থেকে গাড়িটি উদ্ধার করেছে এবং চক্রের নেতা নিয়াজুর রহমান ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে।


চাঁদাবাজদের হুমকির মুখে সবচেয়ে বেশি রয়েছেন রিকন্ডিশন্ড গাড়ি ব্যবসায়ীরা। সর্বশেষ ১৫ অক্টোবর বারিধারায় একটি শোরুমের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এখন পর্যন্ত ১২টি শোরুমে একই ধরণের হামলার ঘটনা ঘটেছে।


হুমকি পাওয়া একাধিক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, বিদেশি নম্বর থেকে ৫ থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। ফোনে তাদের সন্তানদের স্কুলের তথ্য জানিয়ে অপহরণের হুমকিও দেওয়া হয়। এসব ঘটনায় “কাশেম দ্বীপ”, “দাদা বিনোধ” ও “পটকা বাবু” নাম ব্যবহার হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, এসব ব্যক্তির মধ্যে কয়েকজন দেশের বাইরে অবস্থান করছে।


বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বারভিডা) সভাপতি আবদুল হক বলেন, “ছয় মাস ধরে ধারাবাহিকভাবে গাড়ি ব্যবসায়ীরা চাঁদার হুমকি পাচ্ছে। প্রথমে ভেবেছিলাম দুষ্টু ছেলেরা করছে, কিন্তু এখন দেখছি মাফিয়া স্টাইলে বিদেশ থেকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।”


এদিকে, রাজধানীর মোহাম্মদপুর, মিরপুর ও পল্লবীতেও চাঁদাবাজি ও হামলার ঘটনা বেড়েছে। ১১ জুলাই পল্লবীতে এক নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে হামলার সময় গুলিবিদ্ধ হন এক কর্মকর্তা। পুলিশ বলছে, এসব ঘটনায় অনেক সময় বিদেশে অবস্থান করা তিন ভাই—মফিজুর, মজিবুর ও মশিউর রহমানের নাম আসে, যারা মিরপুর-পল্লবীর অপরাধ জগতে চিহ্নিত।


ঢাকা মহানগর পুলিশের ডিসি (মিডিয়া) তালেবুর রহমান বলেন, “চাঁদাবাজির ঘটনায় কেউ যদি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দেন, পুলিশ অবশ্যই তা তদন্ত করবে।”


সূত্র: সমকাল