বৃহস্পতিবার , ০৮ অক্টোবর ২০২৬
বৃহস্পতিবার , ০৮ অক্টোবর ২০২৬
হোম › জাতীয় › জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোট সংকট: রাজনৈতিক সমঝোতার অপেক্ষায় সরকার

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোট সংকট: রাজনৈতিক সমঝোতার অপেক্ষায় সরকার

favicon
অনলাইন সংস্করণ
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোট সংকট: রাজনৈতিক সমঝোতার অপেক্ষায় সরকার

রাষ্ট্র সংস্কারে প্রণীত ‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’ বাস্তবায়ন ও গণভোট নিয়ে তৈরি রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে রাজনৈতিক দলগুলোর সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে সরকার। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দলগুলো ঐকমত্যে পৌঁছতে না পারলে সরকার নিজস্ব সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবে বলেও জানিয়েছে সূত্র। ইতিমধ্যে এ সংক্রান্ত প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে।

চার দিন পার হলেও দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল বিএনপি এখনো কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেয়নি। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীসহ ইসলামি দলগুলো তাদের দাবি আদায়ে রাজপথে শক্তি প্রদর্শনে নেমেছে। এ অবস্থায় সরকারের সমঝোতার আহ্বানকে ইতিবাচকভাবে নিলেও, গণতন্ত্র মঞ্চ ও সংশ্লিষ্ট নয়টি দলের নেতারা আশাবাদী হতে পারছেন না।

সূত্র জানায়, গত সোমবার প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের জরুরি বৈঠকে রাজনৈতিক দলগুলোকে দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছার আহ্বান জানানো হয়। বৈঠকে বলা হয়, গণভোটের সময়সূচি, বিষয়বস্তু এবং জুলাই সনদের ভিন্নমত সংক্রান্ত বিষয়ে ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবের আলোকে ‘জরুরি ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত’ নিতে হবে। এ জন্য এক সপ্তাহ সময় বেঁধে দিয়েছে সরকার।

তবে বিএনপি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সমঝোতা বিষয়ে কোনো ঘোষণা দেয়নি। শুধু একটি ‘সমঝোতামূলক রূপরেখা’ তৈরির জন্য দুই সদস্যের কমিটি গঠন করেছে দলটি। অপরদিকে জামায়াতে ইসলামী ও আটটি ইসলামি দল গত বৃহস্পতিবার যমুনা অভিমুখে মিছিল ও প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে। তারা ১০ নভেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে, দাবি না মানলে ১১ নভেম্বর ঢাকায় বড় সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

এদিকে গণতন্ত্র মঞ্চভুক্ত ছয়টি দল, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণঅধিকার পরিষদ ও এবি পার্টি মিলে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোটের সময় নিয়ে নতুন রাজনৈতিক ঐক্য তৈরির চেষ্টা করছে। তবে পরস্পরবিরোধী অবস্থানের কারণে অগ্রগতি খুবই সীমিত।

গণতন্ত্র মঞ্চের শীর্ষ নেতা ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, “আমরা দলগুলোকে সমঝোতায় বসানোর চেষ্টা করছি, কিন্তু সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। কারণ এখন রাজনীতি আলোচনা থেকে সরে গিয়ে রাজপথের শক্তি প্রদর্শনে রূপ নিচ্ছে। এতে পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “সরকার মাত্র সাত দিনের সময় দিয়ে দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে। রাজনৈতিক মতভেদের এই গভীরতা থেকে সমঝোতা বের করা কঠিন হবে। এখন সংকট রাজনৈতিকভাবে সমাধান না হলে তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।”

সরকারের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আইন মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ প্রণয়নে কাজ শুরু করেছে। আগামী সপ্তাহেই এটি চূড়ান্ত হতে পারে। গতকাল উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকেও এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং কিছু ‘আন-অফিশিয়াল’ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।

রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে গতকাল আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলো সিদ্ধান্তে না পৌঁছালে অন্তর্বর্তী সরকার নিজেই সিদ্ধান্ত নেবে। তবে আমরা চাই দলগুলো আলোচনার মাধ্যমে ঐকমত্যে পৌঁছাক।”

তিনি আরও বলেন, “গোটা জাতি এখন নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। রাজনৈতিক দলগুলো দ্রুত সিদ্ধান্ত নিলে দেশ নির্বাচনী প্রচারণার পথে এগিয়ে যেতে পারবে।”