বৃহস্পতিবার , ০৮ অক্টোবর ২০২৬
বৃহস্পতিবার , ০৮ অক্টোবর ২০২৬
হোম › জাতীয় › ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি ঘিরে সর্বোচ্চ সতর্কতা: দেশে সহিংসতা ও নাশকতা বেড়েছে

‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি ঘিরে সর্বোচ্চ সতর্কতা: দেশে সহিংসতা ও নাশকতা বেড়েছে

favicon
অনলাইন সংস্করণ
‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি ঘিরে সর্বোচ্চ সতর্কতা: দেশে সহিংসতা ও নাশকতা বেড়েছে

কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ঘোষিত আগামী বৃহস্পতিবারের ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি ঘিরে সারাদেশে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ও নাশকতার আশঙ্কায় বিশেষ নিরাপত্তা জারি করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। গতকাল মঙ্গলবার সংস্থার সদর দপ্তর থেকে দেশের সব বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে পাঠানো চিঠিতে বাড়তি সতর্কতা ও নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়।


এত সতর্কতা সত্ত্বেও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক নাশকতার ঘটনা ঘটছে। এতে যান ও জনচলাচলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত শুধু রাজধানীতেই চারটি বাস ও একটি প্রাইভেট কারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে—সূত্রাপুর, যাত্রাবাড়ী, ভাটারা ও উত্তরায়। এছাড়া ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় আলম এশিয়া পরিবহনের একটি বাসে আগুন দিয়ে চালককে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে।


পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অন্তত ১৪টি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাদ আলী জানান, গত ১১ দিনে রাজধানীতে ১৭টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে এবং গত দুই দিনে ৯টি গাড়িতে আগুন লাগানো হয়েছে। এসব ঘটনায় ৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ১৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।


তিনি আরও বলেন, “ঢাকার বাইরে থেকে লোকজন এনে টাকার বিনিময়ে মিছিল ও ককটেল হামলা চালানো হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে হেলমেট ও মাস্ক পরে অপ্রাপ্তবয়স্কদের ব্যবহার করা হচ্ছে।”


এদিকে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, ১৩ নভেম্বরকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা জোরদার ও টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। তিনি বলেন, “কেপিআই এলাকাগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আমাদের কঠোর অবস্থানের কারণে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে।”


অন্যদিকে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে বাসচালক জুলহাস উদ্দিনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন দুই যাত্রী—শারমিন সুলতানা রুমকি ও তার ছেলে শাহিদ ইসলাম বাদশা। পুলিশ জানায়, মধ্যরাতে মুখোশ পরা তিনজন মোটরসাইকেলযোগে এসে বাসে আগুন দেয়।


এছাড়া মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় গ্রামীণ ব্যাংকে আগুন দেওয়ার চেষ্টা ও ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের পাঁচ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।


বেবিচকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সব বিমানবন্দরে সার্বক্ষণিক সিসিটিভি নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে, টহল ও মনিটরিং বাড়াতে হবে, এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে। বেবিচকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মাদ কাউছার মাহমুদ বলেন, “যাত্রীদের নিরাপত্তা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। জনস্বার্থে সবাইকে সচেতন থেকে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে।”


অন্যদিকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ধানমণ্ডিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। যদিও এতে কেউ হতাহত হয়নি। একই সময়ে ধানমণ্ডি ২৭ নম্বর সড়কে ঝটিকা মিছিলের চেষ্টা করার সময় যুবলীগের দুই নেতাকে আটক করে পুলিশ।


ধানমণ্ডি থানার ওসি ক্যশৈনু মারমা বলেন, “বিস্ফোরণ ঘটনার তদন্ত চলছে, কারা এর সঙ্গে জড়িত তা শনাক্তের চেষ্টা চলছে।”