১১ লাখ চালকের স্মার্ট ড্রাইভিং লাইসেন্স আটকে: ঠিকাদার না থাকায় বিআরটিএর সংকট চরমে
পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও রাজধানীসহ দেশের অন্তত ১১ লাখ পেশাদার ও অপেশাদার গাড়িচালক স্মার্ট ড্রাইভিং লাইসেন্স পাচ্ছেন না। নতুন ঠিকাদার নিয়োগে দেরি হওয়ায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) চার মাস ধরে স্মার্ট কার্ড লাইসেন্স মুদ্রণ বন্ধ রেখেছে।
বিআরটিএ সূত্র জানায়, গত নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় ১১ লাখ লাইসেন্স মুদ্রণের অপেক্ষায় রয়েছে; চলতি ডিসেম্বরে এ সংখ্যা ১২ লাখ ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় ২৯ জুলাই থেকে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান মাদ্রাজ সিকিউরিটি প্রিন্টার্স (এমএসপি) লাইসেন্স মুদ্রণ বন্ধ করে দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ২০২০ সালের জুলাই থেকে পাঁচ বছরের জন্য নিয়োগ পেয়েছিল।
চুক্তি অনুযায়ী পাঁচ বছরে ৪০ লাখ স্মার্ট কার্ড সরবরাহের কথা থাকলেও এমএসপি মোটামুটি ২৬ লাখের মতো কার্ড সরবরাহ করতে পেরেছে। সাত লাখ লাইসেন্স মুদ্রণ বাকি থেকেই চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে। প্রতিদিন ৮ হাজার কার্ড সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও কখনোই প্রতিষ্ঠানটি তা পূরণ করতে পারেনি।
এর আগে টাইগার আইটি দায়িত্বে থাকলেও বিশ্বব্যাংকের কালো তালিকাভুক্ত হওয়ায় তাদের চুক্তি বাতিল হয়। ফলে একসময় প্রায় ১২ লাখ ৪৫ হাজার লাইসেন্স আবেদন ঝুলে ছিল। সংকট কাটাতে ২০২৩ সালের আগস্টে ই-ড্রাইভিং লাইসেন্স চালু করে সরকার। তবে মাঠ পর্যায়ে পুলিশসহ বেশির ভাগ সংস্থা এটি গ্রহণ করছে না বলে অভিযোগ রয়েছে, এতে বৈধ চালকরাও হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
বিদেশ যাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে এমন আবেদনকারীদের জন্য সীমিতভাবে সদর দপ্তরে বিআরটিএ নিজস্ব ব্যবস্থায় স্মার্ট কার্ড মুদ্রণ করছে। বনানী অফিসে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ জরুরি কার্ডের আশায় ভিড় করছেন, যদিও সরবরাহের হার খুবই কম।
বিআরটিএর পরিচালক (প্রকৌশল) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ জানান, এক সপ্তাহের মধ্যেই নতুন দরপত্র আহ্বান করা হবে। বিদেশগামীদের জরুরি স্মার্ট কার্ড নিজেরা প্রিন্ট করা হচ্ছে এবং ই-লাইসেন্সকে বৈধ হিসেবে সব সংস্থাকে গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।