বৃহস্পতিবার , ০৮ অক্টোবর ২০২৬
বৃহস্পতিবার , ০৮ অক্টোবর ২০২৬
হোম › জাতীয় › চাকরি-বিধিমালা না হওয়ায় শুক্রবার থেকে মেট্রোরেল কর্মবিরতি, ডিএমটিসিএল এমডি অবরুদ্ধ

চাকরি-বিধিমালা না হওয়ায় শুক্রবার থেকে মেট্রোরেল কর্মবিরতি, ডিএমটিসিএল এমডি অবরুদ্ধ

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
চাকরি-বিধিমালা না হওয়ায় শুক্রবার থেকে মেট্রোরেল কর্মবিরতি, ডিএমটিসিএল এমডি অবরুদ্ধ

স্বতন্ত্র চাকরি-বিধিমালা প্রকাশ না করায় আগামীকাল শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সকাল ৭টা থেকে সর্বাত্মক কর্মবিরতি ও মেট্রোরেলের সব ধরনের যাত্রীসেবা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) নিয়মিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। পাশাপাশি প্রতিদিন ডিএমটিসিএল প্রধান কার্যালয়ের সামনে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে।


ঘোষিত কর্মসূচির পর বৃহস্পতিবার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ফারুক আহমেদ। আলোচনায় তিনি চাকরি-বিধিমালা প্রণয়নে আরও সময় চান। তবে আন্দোলনকারীরা তা প্রত্যাখ্যান করে তাকে তার কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তিনি কক্ষে আটকা ছিলেন বলে জানা গেছে।


এর আগে বুধবার দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে কর্মচারীরা জানান, প্রতিষ্ঠার ১২ বছর পরও ডিএমটিসিএলের ৯০০-এর বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য কোনো স্বতন্ত্র চাকরি-বিধিমালা চূড়ান্ত হয়নি। ফলে ছুটি, সিপিএফ, গ্র্যাচুইটি, শিফট-অ্যালাউন্স, ওভারটাইম, গ্রুপ ইনস্যুরেন্সসহ মৌলিক সুবিধা থেকে তারা বঞ্চিত।


২০২৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর উপদেষ্টা কমিটি ৬০ কর্মদিবসের মধ্যে সার্ভিস রুল প্রণয়নের নির্দেশ দিলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে আশ্বাস দেওয়া হলেও তাও পূরণ হয়নি, ফলে কর্মচারীদের ক্ষোভ চরমে পৌঁছায়।


ডিএমটিসিএল এমডির বক্তব্য অনুযায়ী, সার্ভিস রুলের সব ধারা নিয়ে পরিচালনা পর্ষদ একমত হলেও ‘বিশেষ বিধান’ অধ্যায় নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এই বিধান মেট্রোরেল প্রকল্পের কর্মীদের ডিএমটিসিএলে আত্মীকরণ করার বিষয়টি নিয়ে, যা কর্মচারীদের দাবি—দেশের প্রচলিত আইন ও সুপ্রিম কোর্টের রায়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।


কর্মচারীদের অভিযোগ, পরিচালনা পর্ষদ বিতর্কিত ধারা বাতিল করতে রাজি থাকলেও ডিএমটিসিএল কর্তৃপক্ষের চাপে সার্ভিস রুল প্রকাশ বিলম্বিত হচ্ছে। তারা বলছেন, যাত্রীসেবা বন্ধ হলে তার দায়িত্ব কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে।


তাদের দাবি—চাকরি-বিধিমালা ছাড়া ক্যারিয়ার, সুবিধা ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত হবে না; তাই আলোচনার আশ্বাস নয়, কেবল প্রকাশিত সার্ভিস রুলই চূড়ান্ত সমাধান।