বৃহস্পতিবার , ০৮ অক্টোবর ২০২৬
বৃহস্পতিবার , ০৮ অক্টোবর ২০২৬
হোম › জাতীয় › হাদির শারীরিক অবস্থা নিয়ে এখনই আশার কথা বলা যাচ্ছে না: ডা. সায়েদুর রহমান

হাদির শারীরিক অবস্থা নিয়ে এখনই আশার কথা বলা যাচ্ছে না: ডা. সায়েদুর রহমান

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
হাদির শারীরিক অবস্থা নিয়ে এখনই আশার কথা বলা যাচ্ছে না: ডা. সায়েদুর রহমান

মাথায় গুলিবিদ্ধ ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। এ অবস্থায় এখনই আশার কোনো নিশ্চয়তা দেওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান।


শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হাদির অবস্থা পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের তিনি জানান, আগামী ৭২ ঘণ্টা রোগীর জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময়।


ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, গুলিটি বাম কানের ওপর দিয়ে মাথায় প্রবেশ করে ডান দিক দিয়ে বেরিয়ে গেছে। এ গতিপথে মস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ব্রেন স্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘ম্যাসিভ ব্রেন ইনজুরি’ হিসেবে বিবেচিত। এ অবস্থায় নতুন কোনো চিকিৎসা-হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। রোগীকে কেবল লাইফ সাপোর্টে রেখে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।


তিনি জানান, হাদিকে বর্তমানে কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাসে রাখা হয়েছে। যদিও চিকিৎসকেরা এখনো নিশ্চিতভাবে আশার কথা বলতে পারছেন না, তবে রোগীর শরীরে এখনো জীবনের কিছু লক্ষণ রয়েছে। অস্ত্রোপচারের সময় তাঁর নিজস্ব শ্বাস নেওয়ার সামান্য চেষ্টা লক্ষ্য করা গেছে।


ডা. সায়েদুর আরও বলেন, অস্ত্রোপচারের আগেই হাদি একবার শকে চলে গিয়েছিলেন। পরে অ্যাম্বুল্যান্সে স্থানান্তরের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ দেখা দিলেও তা আপাতত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল এবং সতর্ক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।


এর আগে শুক্রবার রাত ৮টার পর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে হাদিকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঢাকা মেডিক্যালের নিউরোসার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক জাহিদ রায়হান জানান, হাদি দুবার কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে আক্রান্ত হয়েছেন এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছে। তাঁর ভাষায়, রোগীর অবস্থা সর্বোচ্চ খারাপ পর্যায়ে রয়েছে।


এদিকে ঘটনার তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ বলেন, আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।