শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলাকারীরা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালিয়েছে কি না নিশ্চিত নয়: বিজিবি
ঢাকায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলি চালানো ব্যক্তিরা ময়মনসিংহ সীমান্ত ব্যবহার করে ভারতে পালিয়েছে কি না—এ বিষয়ে এখনো শতভাগ নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন বিজিবির ময়মনসিংহ সেক্টর কমান্ডার কর্নেল সরকার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) ময়মনসিংহ নগরীর খাগডহর বিজিবি ক্যাম্পে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
তিনি জানান, শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) রাত ৯টার মধ্যে বিজিবি সদর দপ্তরের নির্দেশনায় সম্ভাব্য পাচারের রুটগুলো চিহ্নিত করে সীমান্তের অধিকাংশ এলাকায় টহল জোরদার ও চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়। পরদিন শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) পুলিশ ও বিজিবির সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।
করনেল মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ঢাকা থেকে আগত পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিজিবি ময়মনসিংহ সেক্টরের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল এবং অপারেশন সংক্রান্ত বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আলোচনার ভিত্তিতে দুটি স্থানে একযোগে অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, সন্দেহভাজন হিসেবে শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে অবস্থানরত ফিলিপ স্নালকে আটক করার পরিকল্পনা করা হয়। একই সময়ে পুলিশ হালুয়াঘাট এলাকায় আলাদা একটি অপারেশনের প্রস্তুতি নেয়। হালুয়াঘাটে অভিযান পরিচালনায় বিজিবির সোর্স ও অন্যান্য তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহায়তা করা হয়।
অন্যদিকে, নালিতাবাড়ীর বারোমারি এলাকায় বিজিবির নেতৃত্বে এবং ঢাকা থেকে আগত পুলিশ ও হালুয়াঘাট থানার পুলিশ সদস্যদের সমন্বয়ে অভিযান চালানো হয়। তবে সেখানে ফিলিপ স্নালকে পাওয়া যায়নি। অভিযানে তার স্ত্রী ডেলটা চিরান, শ্বশুর ইয়ারসন রংডি এবং মানব পাচারকারী লুইস লেংমিঞ্জাকে আটক করা হয়। এ সময় একটি মোটরসাইকেলও উদ্ধার করা হয়েছে।
বিজিবি জানায়, এখন পর্যন্ত পরিবারের তিনজনসহ মোট চারজনকে আটক করা হয়েছে। সোমবার সকালে আরও একজন মানব পাচারকারী বেঞ্জামিন চিরামকে আটক করা হয়। বর্তমানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।