শনিবার , ১৫ আগস্ট ২০২৬
শনিবার , ১৫ আগস্ট ২০২৬
হোমজাতীয়মালয়েশিয়া শ্রমবাজার খুলছে, ১২ লাখ শ্রমিক নেবে—বিনামূল্যে যাবে ৫০ হাজার!

মালয়েশিয়া শ্রমবাজার খুলছে, ১২ লাখ শ্রমিক নেবে—বিনামূল্যে যাবে ৫০ হাজার!

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
মালয়েশিয়া শ্রমবাজার খুলছে, ১২ লাখ শ্রমিক নেবে—বিনামূল্যে যাবে ৫০ হাজার!

শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা ও স্বল্প ব্যয়ে অভিবাসন নিশ্চিত করে মালয়েশিয়া আবারও বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য বিশাল সুযোগের দ্বার খুলছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে প্রায় ১২ লাখ শ্রমিক নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে মালয়েশিয়া সরকার। এর মধ্যে ৫০ হাজার শ্রমিক যাবেন সম্পূর্ণ বিনা খরচে।

বৃহস্পতিবার (১৫ মে) মালয়েশিয়ার রাজধানী পুত্রজায়ায় দেশটির স্বরাষ্ট্র ও মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এক যৌথ বৈঠকে এ বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, সিনিয়র সচিব ড. নেয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া এবং উপসচিব মো. সরোয়ার আলম।

সূত্র জানায়, মালয়েশিয়া বর্তমানে যেসব খাতে শ্রমিক নিচ্ছে, সেগুলোর মধ্যে সাধারণ শ্রমিকদের চাহিদা বেশি। বেতনও তুলনামূলকভাবে মধ্যপ্রাচ্যের চেয়ে দ্বিগুণ বা তার বেশি। এ সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশে বৈধ উপায়ে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক পাঠানো সম্ভব হবে।

এজেন্সি ব্যবসার দ্বন্দ্বে শ্রমবাজারে বিপত্তি

তবে বিশাল এই শ্রমবাজার অনেক দিন ধরেই নানা জটিলতায় আটকে ছিল। বিশেষ করে কিছু রিক্রুটিং এজেন্সির ব্যবসায়িক বিরোধ, একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ, মামলা-মোকদ্দমা এবং সরকারের ওপর প্রভাব খাটানোর চেষ্টা পরিস্থিতি জটিল করে তোলে।

বাংলাদেশ দূতাবাসের এক কর্মকর্তা বলেন, "ব্যবসায়িক স্বার্থ বাদ দিয়ে এখন সরকার শ্রমিকদের স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে। রিক্রুটিং এজেন্সির কাজ সংগ্রহ করে দেওয়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নয়। যারা বিদেশে গিয়ে কাজ সংগ্রহ করবে, সরকার কেবল তাদের শ্রমিক পাঠানোর অনুমতি দেবে।"

তিনি আরও জানান, অনেকে বিদেশে কোনো কাঠামো না গড়েই দেশে বসে আন্দোলন, মানববন্ধন, সেমিনার আর টকশো করে সমস্যা আরও ঘোলাটে করছে। এতে একপক্ষ অপরপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করছে, এমনকি সরকারের বিভিন্ন সংস্থাও স্বপ্রণোদিত হয়ে তদন্তে নামছে। এর ফলে শুধু মালয়েশিয়া নয়, অন্যান্য শ্রমবাজারও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

আইনি জটিলতায় ইমেজ সংকট

চলমান এসব জটিলতা বৈধ অভিবাসনের পরও মানব পাচার, অর্থপাচার সংক্রান্ত মামলা তৈরির পথ খুলে দিচ্ছে। মালয়েশিয়া ও অন্যান্য রিসিভিং দেশের কাছে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তির ওপর।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ ও দেশের রেমিট্যান্স নির্ভর অর্থনীতির স্বার্থে, এখনই সময় শ্রমবাজারকে স্বচ্ছ, সাশ্রয়ী ও টেকসই পথে ফিরিয়ে আনার। যৌক্তিক অভিযোগ দ্রুত সমাধান করে শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ অভিবাসনের পথ প্রশস্ত করতে হবে।