শনিবার , ২২ আগস্ট ২০২৬
শনিবার , ২২ আগস্ট ২০২৬
হোমরাজনীতিজুলাই সনদে ছাড় দিতে পারে বিএনপি, বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে জটিলতা

জুলাই সনদে ছাড় দিতে পারে বিএনপি, বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে জটিলতা

favicon
অনলাইন সংস্করণ
জুলাই সনদে ছাড় দিতে পারে বিএনপি, বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে জটিলতা

রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে শনিবার সন্ধ্যায় জুলাই জাতীয় সনদের সমন্বিত খসড়া পাঠিয়েছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। এতে ৮৪টি বিষয়ে ঐকমত্য হলেও ১৫টি বিষয়ে দলগুলো দিয়েছে ‘নোট অব ডিসেন্ট’। এর মধ্যে ১০টি প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়েছে বিএনপি। তবে দলটির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, চূড়ান্ত আলোচনায় বিএনপি আরও কিছু বিষয়ে ছাড় দিয়ে নমনীয় অবস্থান নিতে পারে। বিশেষ করে সংসদের উচ্চকক্ষের প্রস্তাবিত পিআর পদ্ধতি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের মতো দু–তিনটি বিষয়ে আপস করার সম্ভাবনা রয়েছে।


বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আলোচনার মধ্য দিয়েই সমাধান খোঁজা সম্ভব। খসড়ায় কিছু অসামঞ্জস্যতা এবং কিছু বিষয় যথাযথভাবে উপস্থাপিত হয়নি, সেগুলো তাদের মতামতে তুলে ধরা হবে।


সংশ্লিষ্টরা জানান, সেপ্টেম্বরের প্রথমার্ধে জুলাই সনদ ঘোষণার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে বাস্তবায়নের অঙ্গীকারনামা থাকলেও বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি এখনো জানানো হয়নি। কমিশন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে আইনি ভিত্তি ও বাস্তবায়ন কাঠামো ঠিক করার চেষ্টা চালাচ্ছে। আগামী সপ্তাহে দলগুলোর সঙ্গে এ বিষয়ে নতুন আলোচনা হওয়ার কথা।


বিএনপি সূত্র বলছে, দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ‘নোট অব ডিসেন্ট’-এর বিষয়গুলো পুনর্বিবেচনার আলোচনাও হয়েছে। ২০ আগস্ট কমিশনে চূড়ান্ত মতামত জমা দেওয়ার আগে বিএনপি কয়েকটি বিষয়ে ছাড় দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। ২৫ আগস্ট থেকে কমিশনের পরবর্তী আলোচনায় অংশ নেবে দলটি।


অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন ও গণ অধিকার পরিষদ জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সংসদ নয়, বরং গণভোট, গণপরিষদ নির্বাচন কিংবা অধ্যাদেশ জারির দাবি করছে। তাদের মতে, ভবিষ্যৎ সংসদে এসব প্রস্তাব বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।


নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না মনে করেন, বিএনপি নির্বাচনের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে বাস্তবায়ন পদ্ধতিতে সুযোগ-সুবিধা দেবে। ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান জানান, তাদের মূল দাবি ছিল পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন, কিন্তু সেটি সনদে প্রতিফলিত হয়নি। তবুও বৃহত্তর স্বার্থে তারা আপস করতে রাজি হয়েছেন।


আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু খসড়ায় কিছু পরিবর্তন দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আর বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেছেন, নোট অব ডিসেন্ট থাকলে প্রকৃত ঐকমত্য হয় না, ফলে বাস্তবায়ন নিয়েও অনিশ্চয়তা থেকে যায়।


সবশেষে প্রশ্ন রয়ে যায়—জুলাই জাতীয় সনদ কি সত্যিই ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারবে, নাকি মতপার্থক্যের কারণে নতুন রাজনৈতিক সংকটের জন্ম দেবে?