ক্যান্টনমেন্টে গানম্যান নিয়ে প্রবেশ নিয়ে সেনাসদস্যের সঙ্গে তর্কে জামায়াত প্রার্থী
গানম্যান নিয়ে ক্যান্টনমেন্টের ভেতর দিয়ে প্রবেশ করতে গিয়ে সেনাসদস্যদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এস এম খালিদুজ্জামান। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী। ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় অস্ত্র বা গানম্যান নিয়ে প্রবেশের বিধিনিষেধ থাকলেও এ নিয়ে দায়িত্বে থাকা সেনাসদস্যদের সঙ্গে তাঁর বাকবিতণ্ডা হয় এবং একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ঘটনার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে গণমাধ্যমের হাতে এসেছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, ক্যান্টনমেন্টে প্রবেশের সময় প্রার্থীর পরিচয় জানতে চান দায়িত্বে থাকা সেনাসদস্যরা। এ সময় খালিদুজ্জামানের সঙ্গে থাকা একজন জানান, তিনি ওই আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী। পরে দলীয় পরিচয় জানতে চাইলে জানানো হয়, তিনি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী।
নিরাপত্তা বিধির কথা উল্লেখ করে সেনাসদস্যরা জানান, ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় অস্ত্র বা গানম্যান নিয়ে প্রবেশের অনুমতি নেই। এ সময় খালিদুজ্জামান বলেন, সেনাসদস্যরাও অস্ত্র বহন করছেন। কথোপকথনের একপর্যায়ে তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে এবং বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
ভিডিওতে তাঁকে আরও বলতে শোনা যায়, কিছু কর্মকর্তার আচরণের কারণে সেনাবাহিনী ও প্রশাসন বিতর্কিত হচ্ছে এবং প্রয়োজনে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও সেনাপ্রধানের সঙ্গে কথা বলবেন। এ সময় দায়িত্বে থাকা সেনাসদস্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন।
পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেন খালিদুজ্জামান। সেখানে তিনি নির্বাচন কমিশনের দেওয়া গানম্যান থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে ক্যান্টনমেন্ট দিয়ে পার হওয়ার অনুমতি চেয়ে কথা বলেন।
এক পর্যায়ে তিনি তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের ভিডিও ধারণ করতে বলেন। তবে সেনাসদস্যরা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় ভিডিও ধারণে নিষেধাজ্ঞার কথা জানিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন।
সেনাসদস্যরা বারবার জানান, ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে প্রার্থী সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকবেন এবং নিরাপত্তার দায়িত্ব সেনাবাহিনী নেবে। গানম্যান ছাড়া ক্যান্টনমেন্ট অতিক্রম করলে বাইরে এসে আবার গানম্যান সঙ্গে যুক্ত হবেন বলেও জানানো হয়।
তবে খালিদুজ্জামান এতে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ক্যান্টনমেন্ট পার হওয়ার পর তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথোপকথন চলতে থাকে।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি।