শুক্রবার , ২১ আগস্ট ২০২৬
শুক্রবার , ২১ আগস্ট ২০২৬
হোমরাজনীতিপ্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে তারেক রহমান এগিয়ে: দ্য ইকোনমিস্ট

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে তারেক রহমান এগিয়ে: দ্য ইকোনমিস্ট

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে তারেক রহমান এগিয়ে: দ্য ইকোনমিস্ট

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান শীর্ষ অবস্থানে রয়েছেন বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সাপ্তাহিক সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট। সাময়িকীটির ২ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত সর্বশেষ সংখ্যায় এ বিষয়ে একটি বিশ্লেষণ প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, খ্যাতনামা রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনের পর দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে শক্ত অবস্থানে আছেন। ১৮ মাস আগে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের পর এটিই বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন। ওই গণআন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের টানা ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে, যাকে দ্য ইকোনমিস্ট দমন-পীড়ন ও দুর্নীতিগ্রস্ত বলে বর্ণনা করেছে।

সাময়িকীটি মনে করে, এই নির্বাচন গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তনের পথ সুগম করবে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাবে, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনবে এবং ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের টানাপোড়েনপূর্ণ সম্পর্ক মেরামতের সূচনা করতে পারে। তারেক রহমানের সম্ভাব্য বিজয় নিয়ে এই পূর্বাভাস টাইম ম্যাগাজিন ও ব্লুমবার্গসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বিশ্লেষণের সঙ্গেও সঙ্গতিপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমানের দেশে ফেরার দৃশ্যের বর্ণনা দিয়ে বলা হয়, বুলেটপ্রুফ বাসে করে ফেরার সময় উচ্ছ্বসিত সমর্থকদের ভিড়ে বাসটি কয়েক মাইল ধীরে চলতে বাধ্য হয়।

দ্য ইকোনমিস্ট আরও জানায়, ২০০৮ সালের পর বাংলাদেশে আর কোনো ‘যথাযথ’ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। প্রায় ১২ কোটি ৮০ লাখ ভোটারের মধ্যে আনুমানিক ৪০ শতাংশ কখনো প্রকৃত অর্থে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পায়নি। নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও বিআইপিএসএসের গবেষণা পরিচালক শাফকাত মুনিরের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘ সময় ধরে ভোটের কোনো বাস্তব মূল্য ছিল না, তবে বর্তমানে রাজধানীর রাস্তাঘাটে আবারও নির্বাচনী প্রচারের চিত্র দেখা যাচ্ছে।

বিশ্লেষণে বলা হয়, নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য এই নির্বাচনই হবে শেষ দায়িত্ব। তবে অধিকাংশ মানুষের মতে, সরকারটি অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে সক্ষম হয়েছে। 

পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে এমন সংস্কার প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে স্বৈরতন্ত্রে ফিরে যাওয়ার ঝুঁকি কমাবে। এর মধ্যে নতুন উচ্চকক্ষ গঠন এবং প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছরে সীমিত করার প্রস্তাব উল্লেখযোগ্য।

জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়, দলটি ‘সব নাগরিকের জন্য সংযত শাসনের’ প্রতিশ্রুতি দিলেও শহুরে মধ্যবিত্ত শ্রেণির মধ্যে তাদের অগ্রগতি উদ্বেগ তৈরি করছে। দলটি এবারের নির্বাচনে কোনো নারী প্রার্থী দেয়নি এবং সংসদীয় অভিজ্ঞতাও সীমিত। এই প্রেক্ষাপটকে তারেক রহমানের জন্য একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে দ্য ইকোনমিস্ট, কারণ জনমত জরিপে বর্তমানে বিএনপি এগিয়ে রয়েছে।

প্রতিবেদনে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়, দীর্ঘদিন বিএনপি পরিচালিত হয়েছে তারেক রহমানের মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে। তার আগে দলটির নেতৃত্বে ছিলেন তার বাবা, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, যিনি ১৯৮১ সালে নিহত হন। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি তিনবার রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে।

তারেক রহমান বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন না করলেও কয়েকটি প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে। এর মধ্যে রয়েছে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, তরুণদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরির সুযোগ তৈরি, পানির সংকট মোকাবিলায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন এবং প্রতিবছর পাঁচ কোটি গাছ লাগানো। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করতে সমস্যা হবে না বলেও 

মন্তব্য করেছেন।

দ্য ইকোনমিস্ট জানায়, তারেক রহমানের মতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া। তিনি ২০২৪ সালের বিক্ষোভে নিহতদের জন্য বিচার দাবি করলেও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার না করার অঙ্গীকার করেছেন। তাঁর ভাষায়, ২০২৪ সালের বিপ্লব প্রমাণ করেছে—যে সরকার জনগণের জন্য কার্যকর কর্মসূচি দিতে ব্যর্থ হয়, তাদের পরিণতি কী হতে পারে।