ফ্রান্সে অতি-ডানপন্থী কর্মী হত্যায় চরম বামপন্থীদের ‘নৈতিক দায়’ অভিযোগ সরকারের
ফ্রান্সে এক অতি-ডানপন্থী কর্মীর হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। সোমবার দেশটির সরকার অভিযোগ করেছে, সাম্প্রতিক এই সহিংস ঘটনায় চরম বামপন্থী রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোর বক্তব্য আংশিকভাবে দায়ী।
গত বৃহস্পতিবার লিয়ঁ শহরের একটি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সংঘটিত হামলায় গুরুতর আহত হন ২৩ বছর বয়সী কোয়েন্টিন দেরাঁক। অতি-ডানপন্থীদের আয়োজিত একটি বিক্ষোভের পার্শ্ববর্তী এলাকায় তিনি হামলার শিকার হন এবং পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
মার্চে অনুষ্ঠিতব্য পৌর নির্বাচন এবং ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে এই ঘটনা ফ্রান্সে অতি-ডান ও চরম বামপন্থীদের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
তদন্ত চলমান থাকলেও সরকার ইতোমধ্যে চরম বামপন্থী দল লা ফ্রাঁস আনবোমিজ (এলএফআই)-এর বক্তব্যকে সহিংসতার জন্য দায়ী করেছে। সরকারের দাবি, দলটির রাজনৈতিক ভাষ্য সহিংস পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে, যা শেষ পর্যন্ত দেরাঁকের মৃত্যুর দিকে নিয়ে যায়।
অতি-ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলো হত্যার জন্য ‘লা জ্যুন গার্দ’ নামে একটি অ্যান্টি-ফ্যাসিস্ট যুবসংগঠনকে দায়ী করছে। সংগঠনটি আগে এলএফআইয়ের এক আইনপ্রণেতার সহ-প্রতিষ্ঠিত বলে জানা গেছে। তবে গত জুনে বিলুপ্ত হওয়া এই সংগঠন ঘটনার সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছে।
লিয়ঁর প্রসিকিউটর সোমবার বিকেলে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
সরকারের মুখপাত্র মোদ ব্রেজোঁ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সহিংস রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরির কারণে বৃহস্পতিবারের হামলার জন্য এলএফআইয়ের ‘নৈতিক দায়’ রয়েছে। এদিকে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের মধ্য-বামপন্থী সদস্য রাফায়েল গ্লুকসমানও দলটির সমালোচনা করে সম্ভাব্য নির্বাচনী জোট নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাখোঁ আগাম সংসদীয় নির্বাচন ডাকলে অতি-ডানপন্থীদের মোকাবিলায় বামপন্থী দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। তবে ওই নির্বাচনের পর ম্যাখোঁ তার সংখ্যাগরিষ্ঠতা আরও হারান এবং অভিবাসনবিরোধী ন্যাশনাল র্যালি (আরএন) নিম্নকক্ষে সবচেয়ে বড় দলে পরিণত হয়।