ব্যাংকিং খাতের বড় সংকট খেলাপি ঋণ: আলী রেজা ইফতেখার
দেশের ব্যাংকিং খাতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন তারল্য সংকট নয়, বরং খেলাপি ঋণের উচ্চহার—এমন মন্তব্য করেছেন Ali Reza Iftekhar। তিনি বলেন, খেলাপি ঋণ একটি ‘ক্যান্সারের মতো’ খাতটিকে ভেতর থেকে ক্ষয় করছে।
Eastern Bank Limited–এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী রেজা ইফতেখার এক সাক্ষাৎকারে জানান, বাইরে থেকে ব্যাংকের আয় ও লাভ ভালো মনে হলেও ভেতরে ভেতরে খেলাপি ঋণের চাপ ব্যাংকগুলোর ওপর বড় প্রভাব ফেলছে। এর ফলে প্রভিশন রাখতে হচ্ছে এবং শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ বিতরণেও বাধা তৈরি হচ্ছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক–এর তথ্য অনুযায়ী দেশে খেলাপি ঋণের হার এখনও আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় বেশি, যদিও সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা উন্নতির ইঙ্গিত রয়েছে।
ইস্টার্ন ব্যাংকের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, তাদের গড় খেলাপি ঋণের হার প্রায় ৩ শতাংশ। এর পেছনে রয়েছে চারটি মূল কৌশল—সঠিক গ্রাহক নির্বাচন, ঋণ প্রস্তাবের যথাযথ মূল্যায়ন, ঋণ বিতরণের পর নিয়মিত তদারকি এবং শক্তিশালী আদায় ব্যবস্থা।
তিনি আরও বলেন, ঋণ দেওয়ার পর যথাযথ মনিটরিং না করলে ভালো গ্রাহকও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বর্তমানে কেওয়াইসি (Know Your Customer) প্রক্রিয়া আরও কঠোর হয়েছে, যেখানে গ্রাহকের আয়ের উৎস ও লেনদেনের ধরন যাচাই করা হয়।
বোর্ডের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নীতিনির্ধারণই হওয়া উচিত বোর্ডের কাজ, সরাসরি ঋণ অনুমোদন নয়। পেশাদার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ঋণ অনুমোদন প্রক্রিয়া পরিচালিত হওয়াই কার্যকর মডেল।
এছাড়া জমির মূল্য বেশি দেখিয়ে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা ঝুঁকি বাড়াচ্ছে উল্লেখ করে তিনি এ ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
ডলারের আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে ব্যবসায়ীরা চাপে পড়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, ধীরে ধীরে সমন্বয় করা হলে এই চাপ কম হতো। এতে আমদানি ব্যয় বেড়ে মূল্যস্ফীতিতেও প্রভাব পড়েছে।
২০২৬ সালকে চ্যালেঞ্জিং উল্লেখ করে Ali Reza Iftekhar বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অর্থনীতি স্থিতিশীল হতে সময় লাগে। একই সঙ্গে তিনি নতুন প্রজন্মের ব্যাংকারদের কঠোর পরিশ্রম ও ধৈর্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।