শুক্রবার , ১৪ আগস্ট ২০২৬
শুক্রবার , ১৪ আগস্ট ২০২৬
হোমজাতীয়জলবায়ু অর্থায়ন সহজলভ্য করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর, চীনে ব্যস্ত কূটনৈতিক তৎপরতা

জলবায়ু অর্থায়ন সহজলভ্য করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর, চীনে ব্যস্ত কূটনৈতিক তৎপরতা

favicon
সাইফুল আলম মিরাজ
জলবায়ু অর্থায়ন সহজলভ্য করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর, চীনে ব্যস্ত কূটনৈতিক তৎপরতা

চীনের দালিয়ানে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) গ্রীষ্মকালীন দাভোস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং সহজলভ্য অর্থায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।


‘ক্লাইমেট লিডারশিপ ইন এ শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্ক্যাপ’ শীর্ষক সেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর জন্য অর্থায়ন আরও সহজলভ্য ও কার্যকর করতে হবে। একই সঙ্গে ‘ক্ষয়ক্ষতি তহবিল’কে প্রতিশ্রুতির পর্যায় থেকে বাস্তবায়নে নিয়ে আসা এবং ‘সবুজ জলবায়ু তহবিল’ (জিসিএফ) আরও কার্যকরভাবে পরিচালনার আহ্বান জানান।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় শুধু প্রশমন নয়, অভিযোজনমূলক ব্যবস্থাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। জলবায়ু সহনশীলতা গড়ে তুলতে বৈশ্বিক অংশীদারত্ব ও যৌথ অঙ্গীকারের প্রয়োজন রয়েছে।


চীনের দালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এ সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারক, ব্যবসায়ী, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও সরকারি প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ‘বৃহৎ পরিসরে উদ্ভাবন’।


সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন Alois Zwinggi। বৈঠকে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশসহ অন্যান্য ডেল্টা রাষ্ট্রের জন্য সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।


বৈঠকে তিনি জানান, বাংলাদেশ আগামী পাঁচ বছরে ২৫০ মিলিয়ন বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল পুনঃখননের মাধ্যমে পানিপ্রবাহ পুনরুদ্ধার, বন্যা ঝুঁকি হ্রাস এবং পরিবেশ সংরক্ষণে কাজ করছে সরকার।


নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে করসুবিধা দেওয়া হয়েছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।


আলোইস জভিংগি বাংলাদেশের জলবায়ু সহনশীলতা ও টেকসই উন্নয়ন উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, এসব পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী ও অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর আগ্রহ সৃষ্টি করতে পারে। তিনি বাংলাদেশের উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন এবং দাভোসে অনুষ্ঠিত ডব্লিউইএফের বার্ষিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানান।


এদিকে চীন সফরে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রধানমন্ত্রী। দালিয়ানে তিনি Amadou Oury Bah-এর সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক নেতার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা করেছেন। আজ তিনি হাইস্পিড ট্রেনে বেইজিং যাবেন, যেখানে চীনের প্রধানমন্ত্রী Li Qiang-এর সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি একাধিক সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে।


সফরসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৫ থেকে ১৭টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে। পাশাপাশি সমন্বিত নদী ব্যবস্থাপনা এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনাও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে থাকছে।