সোমবার , ১৭ আগস্ট ২০২৬
সোমবার , ১৭ আগস্ট ২০২৬
হোমবিশ্বগাজা যুদ্ধের মধ্যে ইসরায়েলে ভারতের আড়াই হাজারের বেশি অস্ত্রের চালান: অ্যামনেস্টি

গাজা যুদ্ধের মধ্যে ইসরায়েলে ভারতের আড়াই হাজারের বেশি অস্ত্রের চালান: অ্যামনেস্টি

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
গাজা যুদ্ধের মধ্যে ইসরায়েলে ভারতের আড়াই হাজারের বেশি অস্ত্রের চালান: অ্যামনেস্টি

ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান চলাকালে ভারত থেকে দেশটিতে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।


সংস্থাটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত **২ হাজার ৫৯৬টি চালানের মাধ্যমে** এসব সামরিক সরঞ্জাম ইসরায়েলে পাঠানো হয়।


‘মেড ইন ইন্ডিয়া: দ্য সাপ্লাই অব উইপনস অ্যান্ড অ্যামুনিশন টু ইসরায়েল’ শীর্ষক প্রতিবেদনে অ্যামনেস্টি জানিয়েছে, এসব চালানের মধ্যে মেশিনগানের যন্ত্রাংশ, ১৫৫ মিলিমিটার আর্টিলারি শেল, স্কাইস্ট্রাইকার ড্রোনের বিস্ফোরক ওয়ারহেড এবং সাঁজোয়া যান-সংক্রান্ত বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ছিল।


অ্যামনেস্টির তথ্য অনুযায়ী, চালানগুলোর মধ্যে প্রায় **৫ লাখ ৬৪ হাজার ৯৭০টি বিস্ফোরক অস্ত্রের উপাদান**, **৩ লাখ ৯০ হাজার ৫১৬টি সামরিক মানের ছোট অস্ত্রের যন্ত্রাংশ** এবং সাঁজোয়া সামরিক যানের **২৯৮টি উপাদান** ছিল।


সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা আন্তর্জাতিকভাবে ব্যবহৃত হারমোনাইজড সিস্টেম (এইচএস) কোডের ভিত্তিতে এসব তথ্য বিশ্লেষণ করেছে। তবে যেসব চালানের পণ্য সামরিক না বেসামরিক—তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি, সেগুলো বিশ্লেষণ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রকৃত সরবরাহের পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে বলে দাবি করেছে অ্যামনেস্টি।


প্রতিবেদন তৈরির সময় ইসরায়েলে সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর বিষয়ে ভারতের নয়টি কোম্পানি ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের আগে কোনো পক্ষের কাছ থেকেই জবাব পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।


অ্যামনেস্টির মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড বলেন, গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গণহত্যার ঝুঁকি নিয়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের অন্তর্বর্তী আদেশ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলে অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রাখলে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।


তবে ইসরায়েলে পাঠানো এসব অস্ত্র গাজায় কীভাবে বা কতটা ব্যবহার করা হয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। আল জাজিরার এক অনুসন্ধানেও ভারতকে ইসরায়েলে সামরিক-সম্পর্কিত পণ্য রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও ওই তথ্য দিয়ে গাজায় অস্ত্রগুলোর ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়নি।


গত এক দশকে ভারত ও ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ভারত ইসরায়েলি অস্ত্রের অন্যতম বড় ক্রেতা এবং দুই দেশের বিভিন্ন প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান যৌথভাবেও কাজ করছে। অন্যদিকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বরাবরই বলে আসছে, তাদের অস্ত্র রপ্তানির সিদ্ধান্ত জাতীয় স্বার্থ ও আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে নেওয়া হয়।