কুষ্টিয়ায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার অভিযোগ, গাড়ি ভাঙচুর
কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় লালন শাহের মাজার প্রাঙ্গণে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা ও তার গাড়িবহরে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পাঁচজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন তিনি।
রোববার (৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে লালন শাহের মাজার প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। হামলার জন্য বিএনপির নেতাকর্মীদের দায়ী করেছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও এনসিপির নেতারা। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলা হয়েছে, স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে উত্তেজনা থেকে ঘটনাটি ঘটেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যার পর নেতাকর্মীদের নিয়ে গাড়িবহরসহ লালন মাজারের মেলা প্রাঙ্গণে যান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। সেখান থেকে বের হওয়ার সময় একদল যুবক তাকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ করে বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় বহরে থাকা একটি কালো মাইক্রোবাসে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ভাঙচুর করা হয়।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও এনসিপির নেতাকর্মীরা প্রায় এক ঘণ্টা মাজারের ভেতরে অবস্থান করেন। পরে কুমারখালী থানা পুলিশ গিয়ে তাদের সেখান থেকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, তার ওপর হামলা হয়েছে এবং তাদের তিনটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। এ ঘটনায় এনসিপির পাঁচজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। হামলার জন্য বিএনপির নেতাকর্মীদের দায়ী করেন এনসিপির এই নেতা।
তবে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব তসলিম উদ্দিন বলেন, তিনি তখন পাবনায় ছিলেন। অন্যদের কাছ থেকে যতটুকু জানতে পেরেছেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নেতাকর্মীদের নিয়ে গান শুনতে লালন শাহের মাজারে এসেছিলেন। কোনো একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে স্থানীয় লোকজন তাদের ওপর হামলা করেছে বলে তিনি শুনেছেন।
এদিকে এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব তারেক রেজা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার জন্য বিএনপির নেতাকর্মীদের দায়ী করেন।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী লালন শাহের মাজারে এসেছিলেন। সেখানে কে বা কারা হামলা করেছে বলে তিনি শুনেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।